ঢাকা শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৪ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সোচ্চারের জরিপ

উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিকে ভোট দিতে চান

উচ্চশিক্ষিতদের ৪০% জামায়াত, ৩০% বিএনপিকে ভোট দিতে চান

শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ভোটারদের রাজনৈতিক ভিন্নতার চিত্র মিলেছে বেসরকারি সংস্থা সোচ্চারের জরিপে। এতে দেখা যায়, উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে জামায়াতের প্রতি সমর্থন ৪০ শতাংশের, বিএনপির প্রতি আগ্রহ ৩০ শতাংশের। তবে, কম শিক্ষিত ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিএনপির প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক বেশি।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত বিশ্লেষণ থেকেই এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এতে সোচ্চার-টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সভাপতি ড. শিব্বির আহমেদ, ভয়েজ ফর রিফর্মের সম্পাদক এবং বিডিজবসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুর উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ড. শিব্বির আহমেদ বলেন, প্রধান চারটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি এলাকা— ঢাকা-১১, ১৩, ১৫ ও ১৭ আসনের ভোটার কাছ থেকে মতামত নেওয়া হয়েছে।

সোচ্চারের জরিপের তথ্যানুযায়ী, স্নাতক ও তার চেয়ে বেশি শিক্ষিত ভোটারদের মধ্যে ৪০ শতাংশ জামায়াতকে, ৩০ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এছাড়া ১৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, ১০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তিন শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এসএসসি ও সমমান পাস ভোটারদের মধ্যে ৪১ শতাংশ জামায়াতকে, ৩৩ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এছাড়া ১৪ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, ১০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, দুই শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

নিম্নমাধ্যমিক ও তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন ভোটারদের মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত দুই দলের প্রতি সমান আগ্রহ— প্রতি দলের জন্য ৩৬ শতাংশ ভোটার আগ্রহী দেখিয়েছেন। এ ছাড়া ১১ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন, ১২ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, আর দুই–তিন শতাংশ ভোটার ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা ভোটারদের মধ্যেও জামায়াত ও বিএনপির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এক্ষেত্রে জামায়াতের প্রতি সমর্থন প্রায় ২৯ শতাংশ এবং বিএনপির প্রতি প্রায় ৪৫ শতাংশ।

গবেষকরা বলছেন, শিক্ষার স্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সচেতনতা ও পছন্দের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। তরুণ ও শিক্ষিত ভোটাররা বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে বেশি ঝুঁকছেন, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ জরিপের ফলাফল রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন কৌশল নির্ধারণে সহায়ক হবে। বিশেষ করে তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত ভোটারদের আকৃষ্ট করতে দলগুলোকে নতুন পরিকল্পনা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, সোচ্চার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোটারদের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করে। এতে বিভিন্ন শিক্ষাগত স্তরের মোট কয়েক হাজার ভোটার অংশ নেন।

ভোট,জরিপ,জামায়াত,বিএনপি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত