
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও গঠনমূলক হলে যে ফলাফলই হবে, বিএনপি তা মেনে নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের বিষয়ে বিএনপির নাম কখনো আসেনি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে বিএনপিই জয়লাভ করবে। সুষ্ঠু ও গঠনমূলক নির্বাচন হলে, যে ফলাফলই হবে, বিএনপি তা মেনে নেবে।
তিনি অভিযোগ করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত অবস্থানকে পুঁজি করে একটি দল নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা সে প্রচারণাতেই মানুষকে, এমনকি শিশুদেরও অর্থ দিয়ে প্রলুব্ধ করছেন, যা নির্বাচনি আচরণ বিধির চরম লঙ্ঘন।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, এটি অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে, স্বয়ং ওই দলীয় প্রধানের আসনেই টাকা দিয়ে ভোট কেনার অপপ্রয়াস চলছে, তাহলে চিন্তা করুন দেশব্যাপী ওই দলটি কী করছে? নির্বাচনি আচরণবিধির এই লঙ্ঘন একাধারে জনবিচ্ছিন্নতা ও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের প্রমাণ।
তিনি আরও বলেন, যারা সারাক্ষণ সততা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং ইনসাফের বয়ান তৈরি করেন, তারাই যদি নির্বাচনের মাঠে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করেন, তাহলে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক।
মাহদী আমিন বলেন, যে দলটি প্রতিনিয়ত দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, তারাই যদি ভোটের মাঠে, দুর্নীতির মাধ্যমে, টাকা ছড়িয়ে, দলীয় প্রধানের আসনসহ দেশব্যাপী এভাবেই জনগণের ভোট কিনতে চায়, তাহলে এর চেয়ে বড় দ্বিচারিতা ও নৈতিকতার লঙ্ঘন আর কী হতে পারে?
তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন প্রণীত সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি-৪ উপস্থাপন করতে চাই। যেখানে উল্লেখ রয়েছে- কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাহার পক্ষ হইতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ওই প্রার্থীর নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা উক্ত এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন প্রদান করিতে বা প্রদানের অঙ্গীকার বা প্রতিশ্রুতি প্রদান করিতে পারিবেন না।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, আচরণবিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি-২৭ অনুযায়ী: এই লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ।- দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ এর আর্টিকেল ৯১বি (৩) মোতাবেক-(ক) কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন পূর্ব সময়ে এ বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য তিনি অনধিক (৬) ছয় মাসের কারাদণ্ডে অথবা অনধিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন; (খ) কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচন-পূর্ব সময়ে এই বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিলে উহা হইবে একটি অপরাধ এবং তজ্জন্য উক্ত রাজনৈতিক দল অনধিক ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুততম সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, গত ২২ জানুয়ারি থেকে আজ সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণার নির্ধারিত সময় ছিল। উৎসবমুখর এই সময়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ধারাবাহিক প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান ও জরিপের ফলাফল, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি জনসভায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল উপস্থিতি এবং মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা মিলিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি সর্বোচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
তিনি বলেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।