অনলাইন সংস্করণ
২১:৫৭, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ঋণখেলাপীর দায়ে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ এবং সংগঠন পরিপন্থি বক্তব্য ও কার্যকলাপের জন্য বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে দুপুরে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়- ‘যদি ক্ষমতায় বিএনপি থাকে, আর যদি আপনারা অন্য দলকে ভোট দেন, আমি কিন্তু আপনাদের কাউকে ছাড়ব না। প্রয়োজনে ঘরবাড়ি পোড়াইয়া সব ছারখার করে দেব।’
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী দেবিদ্বারের চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান তিনি। গত ২ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাই-বাচাইয়ে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হয়। তবে ওই দিন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার আইনজীবী হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ তোলেন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে।
তারা দাবি করেন, বিএনপির প্রার্থীর আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায় আছে। ব্যাংকের ঋণখেলাপি হওয়ার পরও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে উচ্চ আদালত থেকে তিন মাসের একটি স্থগিতাদেশ এনেছেন তিনি। কিন্তু সেসব তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করেননি। পরে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর আইনজীবী যুক্তি তুলে ধরেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা বাহাসের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে শুনানি শেষে ১৭ জানুয়ারি হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান ১৯ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট করেন। তবে ২১ জানুয়ারি রিটটি সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী আপিল বিভাগে আবেদন করেন। গত ২৬ জানুয়ারি আপিল বিভাগ এই আবেদনের শুনানি ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতবি করেন। এর মধ্যে হাইকোর্টের আদেশের প্রত্যায়িত অনুলিপি পেয়ে তিনি নিয়মিত লিভ টু আপিল করেন। ৩০ জানুয়ারি লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি শেষে আপিল বিভাগ আজ আদেশের জন্য দিন রাখেন। এখানেও তার করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ। বিএনপির অন্য কোনও নেতা মনোনয়ন না কেনায় এক রকম বাধ্য হয়েই জোটের শরিক গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়।