
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী স্বীকার করে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। একইসঙ্গে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখতে সজাগ, নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটের দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় সহনাগরিকবৃন্দ, গত কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আপনাদের অনেকেই সময়, শ্রম ও বিশ্বাস উজাড় করে দিয়েছেন। কেউ কেউ শুধু নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার কারণে ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখেও পড়েছেন। আপনাদের সাহস আমাদের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি জানি, আপনাদের অনেকেই কষ্ট পাচ্ছেন এবং গভীরভাবে হতাশ। সেটাই স্বাভাবিক। যখন হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে কোনো লক্ষ্যকে ধারণ করা হয়, তখন তার ফলাফলও গভীরভাবে নাড়া দেয়। কিন্তু স্পষ্টভাবে বলতে চাই: আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি। ৭৭টি আসন নিয়ে আমরা আমাদের সংসদীয় উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছি। এটি কোনো পশ্চাদপসরণ নয়; এটি একটি ভিত্তি।
জামায়াত আমির বলেন, ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩০টি আসনে নেমে এসেছিল, এরপর ১৮ বছরের পথচলা শেষে ২০২৬ সালে আবার সরকার গঠন করেছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতি দীর্ঘ পথের যাত্রা। আমাদের পথও স্পষ্ট: জনগণের আস্থা অর্জন করা, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নেওয়া।
তিনি বলেন, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক যাত্রায় নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা কেবল নির্বাচনী প্রচারে নয়, বরং জনগণের রায়কে কীভাবে গ্রহণ করা হয়—সেখানেও। শুরু থেকেই আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছি। সেই অঙ্গীকার অটুট রয়েছে। আমরা সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকার করছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছিল না। এটি গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই। আমরা সজাগ, নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী শক্তি হিসেবে দায়িত্ব পালন করব—সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখব এবং একই সঙ্গে দেশের অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান রাখব।
পোস্টের শেষ অংশে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, নীতিনিষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।