ঢাকা রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

৩২ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানাল ১১ দলীয় ঐক্য

৩২ আসনে ভোট পুনঃগণনার দাবি জানাল ১১ দলীয় ঐক্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২টি সংসদীয় আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় ঐক্য’ জোট।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে এ দাবি জানান জোটের প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জোটের মুখপাত্র ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো বিভিন্ন উপাদান সক্রিয় ছিল। যেমন: অবৈধ অস্ত্র, কালো টাকা, হুমকি-ধমকি ও জাল ভোটের মতো ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০০ পিস্তল এখনও উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে—আমরা লক্ষ্য করেছি। কিছু কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিল মারার অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি বারবার কমিশনকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’

নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট তড়িঘড়ি প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি। তার দাবি, দ্রুত গেজেট প্রকাশের কারণে অনেক প্রার্থী যথাসময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শেষ হয়েছে বিকেল সাড়ে ৪টায়। কিন্তু কিছু কেন্দ্রে ভোট শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই এক ধরনের ভোটের হার দেখা গেছে। আবার ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই কেন্দ্রগুলোতে অস্বাভাবিক হারে ভোট পড়ার তথ্য দেখা যায়।

ফলাফল শিটে ঘষামাজার অভিযোগ তুলে ১১ দলীয় জোটের মুখপাত্র বলেন, ঢাকা-৬ আসনে তাদের প্রার্থীর একজন এজেন্ট মুসলিম হলেও ফলাফল শিটে একজন হিন্দুর স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। এছাড়া কিছু স্থানে পেনসিল দিয়ে ফলাফল লেখা হয়েছে। এসবের মাধ্যমে সূক্ষ্মভাবে কারচুপি করা হয়েছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ৩২টি আসনে পুনঃগণনা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে ১১ দলীয় জোট।

এর আগে রোববার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি শুরু হয়।

বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে ১১ দলের পক্ষে ছিলেন– জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ডা. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির মিডিয়া সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াত নেতা ও পাবনা-১ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন,জামায়াতে ইসলামী,১১ দলীয় ঐক্য,জোট,নির্বাচন কমিশন,দাবি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত