ঢাকা সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংরক্ষিত নারী আসন: মনোনয়ন দৌড়ে তিন দলের শতাধিক নেত্রী

সংরক্ষিত নারী আসন: মনোনয়ন দৌড়ে তিন দলের শতাধিক নেত্রী

জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর এখন সবার নজর সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের দিকে। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়। সেই হিসেবে আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) এই প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমান মাছউদ জানিয়েছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।’ সেই হিসেবে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহই হচ্ছে এর ডেডলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে গেজেট হওয়া ২৯৬টি সাধারণ আসনে বিএনপি ২১১টি, জামায়াত ৬৮টি ও এনসিপি পেয়েছে ছয়টি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, খেলাফত মজলিস একটি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে একটি। গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন সাতটি আসন।

নিয়ম অনুযায়ী সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ৬ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকা প্রয়োজন। গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি জোট ৩৫টি এবং জামায়াত জোট পেতে পারে ১৩টি আসন।

সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পেতে তৎপরতা শুরু করেছেন বিএনপির অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী। এরইমধ্যে যে যার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।

দলের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, দলের পক্ষ থেকে এখনও কাউকে নির্ধারণ করা হয়নি। তবে বিগত দিনে রাজপথে সংগ্রাম করেছেন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, এমন নেত্রীদের তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়াও সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত নন; কিন্তু বিভিন্ন ফোরামে দলের পক্ষে ভূমিকা রেখেছেন- এমন নেত্রীদেরও গুডবুকে রাখা হচ্ছে।

এরইমধ্যে কয়েকজনের নাম আলোচিত হচ্ছে। তাদের মধ্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, অপর্ণা রায়, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ময়মনসিংহ জেলা মহিলা দলের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা উর্মি ও শাহিনুর সাগর। কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপা এবং ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদের নামও আলোচনায় আছে।

আলোচনায় আছে- বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, বিএনপির কেন্দ্রীয়সহ স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আকতার, নিলোফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, ইয়াসমিন আরা হক, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিনের নাম।

সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি ও সাধারণ সম্পাদক জেলী চৌধুরী, উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি মেহেরুন নেছা নার্গিস, দক্ষিণ জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল নাঈম রিকু, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক কাউন্সিলর জেসমিনা খানম, জাসাসের কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমা সাঈদ ও ফটিকছড়ির গুম হওয়া বিএনপি নেতা শহিদুল আলম সিরাজ চেয়ারম্যানের সহধর্মিণী সুলতানা পারভীনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

ঢাকা-১৪ আসন থেকে পরাজিত প্রার্থী মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মরহুম শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হুসাইন, শেরপুর-১ আসন থেকে পরাজিত ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সিলেটের হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী ও সাবেক এমপি হাসিনা আহমদ, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-স্বনির্ভর সম্পাদক আসমা আজিজও আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য মনোনয়নের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত আসবে। এখনও চূড়ান্ত তালিকা করা হয়নি। তবে বিগত দিনে যারা রাজপথে ছিলেন বা সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছেন, তাদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে।

এদিকে, প্রকাশ্যে দৌড়ঝাঁপ বা লবিং না থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদের জন্য প্রধানবিরোধী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতেও দুই ডজনের বেশি নারী নেত্রী আলোচনায় এসেছেন।

মহিলা জামায়াতের একটি সূত্র জানায়, এদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসক, অধ্যাপক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

এর মধ্যে রয়েছেন- কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম, সাঈদা রুম্মান, মার্জিয়া বেগম, খন্দকার আয়েশা খাতুন, ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, রাবেয়া খানম, ডা. শিরিন আক্তার রুনা, তানহা আজমি, নার্গিস খান, কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার ও আয়েশা সিদ্দিকা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে আমাদের প্রার্থী বাছাই চলমান। এক্ষেত্রে যোগ্য ও পরিশীলিত ধারার নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অচিরেই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।’

সাধারণ আসন প্রাপ্তির ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভাগে পরতে পারে মাত্র একটি আসন। কারণ সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনে দলীয় ৬টির মধ্যে একটি নারী আসন বণ্টন করা হবে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে এনসিপি। তবে জোটের বড় দল জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদেরকে আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। সে হিসেবে দলটির ভাগ্যে দুটি আসন মিলতে পারে।

দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন নেত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, ঢাকা-১৯ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দিলাশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নাবিলা তাসনিদ এবং দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু। এর বাইরেও আরও কমপক্ষে ৫ জন নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি ভোট হয় না। সাধারণ নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্যরাই এখানে ভোটার। দল বা জোটগুলো তাদের নির্ধারিত আসনের বিপরীতে একক প্রার্থী দিলে তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তবে প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হলে ভোটের প্রয়োজন পড়ে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের পরবর্তী ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দলগুলোকে তাদের অবস্থান কমিশনকে জানাতে হবে।

বিএনপি,নির্বাচন কমিশন,ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন,জামায়াতে ইসলামী,সংরক্ষিত নারী আসন
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত