অনলাইন সংস্করণ
২০:২১, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সমস্ত চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না, এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ‘ডামি’ বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসঙ্গত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেব।
জাময়াত আমির বলেন, আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্র হননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, আজকের এই দিনে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এলে তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একদিনে ৭০ জন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জনকে হত্যা করেছিল। এই ক্ষত আমাদের মন থেকে কোনোদিন মুছবে না।
জামায়াত আমির দলের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে জামায়াত আমির বলেন, ২৪ এর ফ্যাসিবাদ যে এভাবে বিদায় নেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমাদের সিংহশাবক ছাত্ররা এবং জুলাই যোদ্ধারা এ অসাধ্য সাধন করেছে। যারা শহীদ হয়েছেন আল্লাহ তাদের কবুল করুন এবং যারা আহত ও পঙ্গু অবস্থায় আছেন, জাতি তাদের চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।
বক্তব্যে জামায়াত আমির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ফিরে এসে তিনি এটিকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। জেলে থেকে আমরা তার সেই সাহসী ভূমিকা দেখেছি। আমরা দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।
রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রমজান আমাদের তাকওয়া বা খোদাভীতির শিক্ষা দেয়। যার অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকে, তার হাতে কখনো জনগণের আমানতের খেয়ানত হতে পারে না। আমরা যেন এই শিক্ষা ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে পারি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের কেন্দ্রীয় নেতারা, বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।