ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ওয়াকআউটের পর এবার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

ওয়াকআউটের পর এবার আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আবারও জাতীয় সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর এবার দাবি আদায়ে আন্দোলন করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক বিফ্রিংয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেছেন, আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি, সংসদকে ত্যাগ করিনি। আমরা সংসদেরই অংশ। কিন্তু, আন্দোলন ছাড়া আমাদের এখন আর কোনো পথ নেই।

শফিকুর রহমান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের কথা বলা হয়। তবে বিরোধী দল স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, গণভোটে জনগণের কাছে সংবিধান সংশোধনের নয়, বরং সংবিধান সংস্কারের জন্য রায় চাওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, আমরা তার পক্ষেই দাঁড়িয়েছি। কাজেই সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখানে অপ্রাসঙ্গিক। যদি সদিচ্ছা থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকে, তবে তা অবশ্যই সংস্কারভিত্তিক হতে হবে।

জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল—কমিটিকে কার্যকর করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে। কিন্তু এ প্রস্তাবে আপত্তি জানানো হলে আলোচনা সেখানেই শেষ হয়ে যায়।

সংসদের ভেতরে বিরোধী দলের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী গ্যাজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান করার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি। বাধ্য হয়ে আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে নোটিশ দিই। শেষ পর্যন্ত গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) আলোচনার সুযোগ দেওয়া হলে আইনমন্ত্রী জনগণের সংস্কারের দাবিকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন। আমরা তখনই বলেছি, সংস্কার আর সংশোধন এক জিনিস নয়। সরকার জনগণের ইচ্ছার সঙ্গে প্রতারণা করছে।

এ সময় বিগত সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে ফ্যাসিবাদ চাপানো হয়েছিল, তার ছাঁদাকলে বিনা বিচারে ২৬৬৩ জন মানুষকে খুন করা হয়েছে। গুম হয়েছেন ২৫০ জনের বেশি মানুষ, যাদের খোঁজ আজও মেলেনি। আয়নাঘরের মতো ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করে মানুষকে ৮-৯ বছর বন্দি রাখা হয়েছে। সেই অমানবিক ব্যবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান এবং সংবিধান সংস্কারের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান দেখিয়েই আমরা ওয়াকআউট করেছি। তবে আমরা সংসদ ছেড়ে দিইনি (গিভ আপ করিনি)। আমরা এখন আবার সেই জনগণের কাছেই ফিরে যাব। আমাদের ১১টি দলের জোট দ্রুতই একত্রে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করবে। জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।

আবা/এসআর/২৬

আন্দোলন,হুঁশিয়ারি,বিরোধী দল
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত