অনলাইন সংস্করণ
১১:৩২, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে আহতরা জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক, ঢাবির শিক্ষার্থী তানজিম, আলভি, এহসান এবং শিক্ষার্থী-সাংবাদিক সিফাত, লিটন ও খালিদসহ আরও কয়েকজন। এছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমের অন্তত আটজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন মানজুর হোছাঈন মাহি, লিটন ইসলাম, শামসুদ্দৌজা নবাব, মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, হারুন ইসলাম, আসাদুজ্জামান খান, নাইমুর রহমান ইমন ও খালিদ হাসান। তাদের মধ্যে ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়া আবদুল্লাহ আল মাহমুদের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য রয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। যদিও আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বিষয়টি অস্বীকার করে পাল্টা বক্তব্য দেন।
পরবর্তীতে নিরাপত্তার জন্য তিনি সন্ধ্যা সাতটার দিকে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। তার সঙ্গে অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুর রহমান হাসিবসহ আরও দুজন ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা থেকে ধাক্কাধাক্কি এবং পরে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয়।
পরবর্তীতে কিছুক্ষণ পরিস্থিতি শান্ত হলেও আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হন।
ঘটনার সময় বিভিন্ন হল শাখার ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, হঠাৎ উত্তেজনা সৃষ্টি করে সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।
পরবর্তীতে ডাকসু নেতারাও থানায় গেলে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হলেও ঘটনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির জানান, তিনি বিষয়টি জেনেছেন এবং খোঁজ নিচ্ছেন।