ঢাকা শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুপেয় পানি নিশ্চিত করুন

সুপেয় পানি নিশ্চিত করুন

পানির এক নাম জীবন। মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য বিশুদ্ধ পানির বিকল্প নেই। জীবন বাঁচাতে এ পানির যখন আকাল হয়, তখন জীবন বাঁচানো কষ্টকর হবে, এটাই স্বাভাবিক। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে দেশের উপকূল অঞ্চল পটুয়াখালীর একটি উপজেলার ১৭টি বিচ্ছিন্ন চরে সুপেয় পানির জন্য যে হাহাকারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, কোনো সন্দেহ নেই তা চরম উদ্বেগের। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ছোট-বড় এসব বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজারো মানুষের নিত্যদিনের চিত্র এটি। ফিটকিরি দিয়ে পানি শোধন, টিউবওয়েলে পানি ঢেলে পানি তোলা, নোনা পানিতে রান্না তাদের দৈনন্দিন বাস্তবতা। স্থানীয়দের ভাষ্য, চৈত্রের আগ থেকেই শুরু হয় তীব্র পানির সংকট। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, নদী-খাল ভরাট, পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, অতি খরা এই সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

তাছাড়াও রয়েছে নদীভাঙন, অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণ, ড্রেজিংয়ের নামে অনিয়ম, তরমুজ চাষে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার। পাশাপাশি প্রশাসনের উদাসীনতায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে দিন দিন। দুই শতাধিক নদী-খাল থাকা সত্ত্বেও নিরাপদ পানির কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না অঞ্চলগুলোয়। বহু বছর আগে ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন নিয়ে এসব চরভূমে কাজ করা উন্নয়ন সংস্থাগুলো নিয়েছে হাত গুটিয়ে।

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোয় বছরের বিভিন্ন সময় সুপেয় পানির সংকট নতুন নয়। এসব অঞ্চলে খরার সময় এক রকমের সংকট দেখা যায়। আবার বর্ষায় আরেক রকমের সংকট। বিশেষ করে চরগুলোয় ভাটায় খাল শুকিয়ে যায়। জোয়ারেও আসে না পর্যাপ্ত পানি। চিকন নালায় জমে থাকা কাদামিশ্রিত পানি কোনোরকমে তুলে আনতে হয়। সেই নোনা, অপরিচ্ছন্ন পানিই তাদের পরিবারের রান্না, খাওয়াসহ সংসারের যাবতীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। দেখা যায়, চরের আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বেড়িবাঁধ এলাকায় বসবাসকারী বহু পরিবার অগভীর কুয়ার পানি ব্যবহার করছে। কোনো আশ্রয়ণ প্রকল্পে ৫০টি পরিবার নিয়মিত বসবাস করলেও রয়েছে পাঁচটি টিউবওয়েল। এর মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র একটি। সেটি থেকেও পানি তুলতে হলে আগে মগভর্তি পানি ঢেলে জোরে হাতল চাপতে হয়। কোনো চরে নেই একটি টিউবওয়েলও। অনুধাবন করা কঠিন নয়, সুপেয় পানির অভাবে এসব এলাকায় পরিস্থিতি কতটা জটিল আকার ধারণ করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, সংকট দেখার কি কেউ নেই? তারা কি দেশের নাগরিক নন? রাষ্ট্রের দায়িত্ব দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতোই এ অঞ্চলের মানুষের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা। এ কথা ঠিক যে, এটি প্রাকৃতিকভাবে বৈরী অঞ্চল। আর বৈরী অঞ্চল বলেই তাদের প্রতি আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কি তাদের দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করছেন?

আমরা মনে করি, সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের সুস্থভাবে জীবন ধারণের জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এটি তাদের ন্যায্য অধিকার। অথচ দীর্ঘকাল ধরে তারা কমবেশি একই সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছে; কিন্তু এই সংকট নিরসনে কি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পদক্ষেপ কখনও নেওয়া হয়েছে? জলবায়ু পরিবর্তন এবং লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে এখানে সাধারণ নলকূপ অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় টেকসই সুপেয় পানির উৎস স্থাপন জরুরি। পাশাপাশি পুকুর খনন ও সুরক্ষা, প্রশাসনিক ও স্থানীয় উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন তাদের দায় এড়াতে পারে না। আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করবেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত