
বিদ্যা, জ্ঞান ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতীর আরাধনায় প্রতি বছর সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয় সরস্বতী পূজা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও তিতুমীর কলেজ ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
হিন্দু ধর্ম মতে, বিদ্যা ও জ্ঞানের দেবী সরস্বতী। তাই আরাধনার মাধ্যমে শিক্ষাজীবনে আলোকিত হওয়ার প্রত্যাশা করে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সরস্বতী পূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং এটি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সহনশীলতা ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
সরকারি তিতুমীর কলেজে এ বছর অর্চনা ২০২৬ উপলক্ষে সরস্বতী পূজা আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) এ বছর পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে তিথি স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে পূজা আরম্ভ, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি এবং সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রসাদ বিতরণ করা হবে।
পূজার সকল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে শহীদ বরকত মিলনায়তন, সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকায়। আয়োজনে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
পূজা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. পরিতোষ মণ্ডলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরস্বতী পূজা শুধু একটি উৎসব নয়, বরং এটি বিদ্যার অলংকার হিসেবে বিবেচিত। তিনি বলেন, যারা অঞ্জলি দিতে আসে, তারা মূলত বিদ্যার উন্নতি ও জ্ঞানের অগ্রগতির প্রত্যাশা নিয়ে আসে। আমাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। প্রতিমা তৈরি হয়ে গেছে, নিমন্ত্রণপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে, পূজার বাজার ও ডেকোরেশনের কাজ চলমান রয়েছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়েই পূজা শুরু করা যাবে।
রাজেশ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের একটি আয়োজন। এই পূজা আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতি আরও অনুপ্রাণিত করে। সরস্বতী পূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি বিদ্যার দেবীর আশীর্বাদ লাভের একটি মাধ্যম। এর মাধ্যমে আমরা সচেতন ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারি।