ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

একই সাজে পরিবারের সবাই

একই সাজে পরিবারের সবাই

উৎসব মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলনমেলা। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে ছবি তোলা— সবকিছুতেই থাকে উৎসবের আমেজ। আর এ আনন্দের অন্যতম অনুষঙ্গ নতুন পোশাক। তবে এখন আর শুধু নিজের পছন্দের পোশাক কেনাতেই সীমাবদ্ধ নেই অনেকে। পরিবারের সবার পোশাকের রঙ ও নকশায় মিল রাখার পাশাপাশি দম্পতিদের একই রঙ ও নকশার পোশাক পরার প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। ক্রেতাদের এ পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোও নিয়ে আসছে নানা নকশা ও বৈচিত্র্যের পোশাক।

পরিবারের সবাই যখন একই রঙ কিংবা কাছাকাছি নকশার পোশাকে সেজে ওঠেন, তখন উৎসবের আনন্দে যোগ হয় ভিন্ন মাত্রা। মায়ের শাড়ির সঙ্গে মেয়ের পোশাক, বাবার পাঞ্জাবির সঙ্গে ছেলের পাঞ্জাবি কিংবা স্বামী-স্ত্রীর পোশাকে একই মোটিফ— এমন সমন্বিত সাজ এখন ফ্যাশনের পরিচিত অনুষঙ্গ। এতে পারিবারিক ছবিতেও তৈরি হয় নান্দনিক সামঞ্জস্য।

শারদ উৎসবের পোশাকে লাল-সাদা বরাবরই জনপ্রিয়। পাশাপাশি লাল, মেরুন, কমলা, হলুদ, সাদা ও বিভিন্ন মাটিরঙের আভাও থাকে উৎসবের সংগ্রহে। শাড়ি, পাঞ্জাবি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও শিশুদের পোশাকে একই নকশা বা মোটিফের ব্যবহার পরিবারের সবার সাজে এনে দেয় একধরনের ঐক্য।

পরিবারের সবার জন্য একই নকশার পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে দেশীয় ফ্যাশন হাউজ মেঘের আয়োজন বরাবরই উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার অহিদুল ইসলাম মিল্টন জানান, বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে মেঘ বড়দের পাশাপাশি শিশুদের জন্যও একই রঙ ও নকশার পোশাক নিয়ে আসে। দম্পতিদের জন্যও থাকে একই নকশার পোশাক। ফলে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক বেছে নিয়েও সাজে মিল রাখতে পারেন।

এবার শারদ উৎসব উপলক্ষে মেঘ এনেছে বড় ও ছোটদের জন্য নানা ধরনের পোশাক। এ সংগ্রহে রয়েছে ছেলেদের পাঞ্জাবি ও টি-শার্ট, মেয়েদের কামিজ ও আনস্টিচড পোশাক এবং শিশুদের ফতুয়া, পাঞ্জাবি, ফ্রক ও টি-শার্ট। আরামদায়ক কাপড় ও উজ্জ্বল রঙের ব্যবহারে পোশাকগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে উৎসবের আমেজ।

শারদ উৎসব উপলক্ষে এবার বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে রঙ বাংলাদেশ। তাদের এবারের নকশার মূল অনুপ্রেরণা নেপালের ঐতিহ্যবাহী কাঠখোদাইশিল্প। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নেপালি কারুশিল্পীদের হাতে সমৃদ্ধ হয়েছে এ শিল্পধারা। মন্দির ও প্রাচীন স্থাপত্যের কাঠের কাজে ফুটে ওঠে তাদের সূক্ষ্ম শিল্পবোধ। রেখার বিন্যাস, অলংকরণের ছন্দ ও খোদাইয়ের গভীরতা এ শিল্পকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়। সেই শিল্পভাষা থেকেই রঙ বাংলাদেশ খুঁজে নিয়েছে এবারের উৎসবের পোশাকের নকশার ভাবনা। রঙ বাংলাদেশের এবারের আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ পরিবারের সবার জন্য একই নকশার পোশাক। 'কারু গল্প', 'রাঙাবৃত্ত' ও 'শরৎরঙ'-এর মতো বিভিন্ন ফ্যামিলি সিরিজে একই নকশার ভাবনায় সাজতে পারবেন পরিবারের ছোট-বড় সদস্যরা। শিশু, তরুণ-তরুণী, বাবা-মা থেকে শুরু করে প্রবীণদের পোশাকে রঙ ও নকশার সামঞ্জস্য একসঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের আনন্দকে আরও দৃশ্যমান করে তুলবে। পাশাপাশি রয়েছে ডুয়েট, কাপল ও ম্যাচিং সিরিজ।

উৎসবের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলতে বিশেষ সংগ্রহ নিয়ে হাজির হয়েছে দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ দেশীদশ। দেশীদশের প্রতিটি ব্র্যান্ড নিয়ে এসেছে নিজস্ব ভাবনা ও স্বতন্ত্র নকশায় তৈরি বিশেষ সংগ্রহ। বর্তমানে নিপুণ, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন'স, রঙ বাংলাদেশ, বাংলার মেলা, সাদাকালো, দেশাল, নগরদোলা ও সৃষ্টি— দেশের এসব ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে দেশীদশ। প্রতিটি ব্র্যান্ডই নিজস্ব নকশা, রঙ, কাপড় ও কারুশৈলীর মাধ্যমে দেশের ফ্যাশন অঙ্গনে গড়ে তুলেছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই পরিবারের সবার জন্য একই রঙ ও নকশার পোশাকের আয়োজন রয়েছে।

দম্পতিদের একই রং বা নকশার পোশাক পরার প্রবণতাও উৎসবের ফ্যাশনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। স্ত্রীর শাড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে স্বামীর পাঞ্জাবি কিংবা একই মোটিফের পোশাক বেছে নিচ্ছেন অনেক যুগল। এতে সাজে যেমন সমন্বয় থাকে, তেমনি উৎসবের ছবি ও স্মৃতিতেও যোগ হয় বিশেষত্ব। তবে যুগল সাজ মানেই পোশাকের রঙ ও নকশা হুবহু এক হতে হবে, এমন নয়। শাড়ির পাড়ের রঙের সঙ্গে পাঞ্জাবির রঙ মেলানো কিংবা একই মোটিফের ভিন্ন ধরনের পোশাক বেছে নেওয়াও হতে পারে রুচিশীল সাজের অংশ।

উৎসবে নতুন পোশাকের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি প্রিয়জনদের সঙ্গে সাজে মিল রাখার এ আয়োজন হয়ে উঠতে পারে পারিবারিক বন্ধনের সুন্দর প্রকাশ। একই রঙ, একই নকশা কিংবা একই ভাবনায় সেজে ওঠা পরিবারের সবার জন্য উৎসবের স্মৃতিকে করে তুলতে পারে আরও রঙিন ও আনন্দময়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত