ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কবি ও কবিতা

গোলাম রববানী
কবি ও কবিতা

কবিতা সহজ নয়। কবি হওয়া আরও কঠিন। যদিও কেউ কেউ বৈপরীত্যের সমর্থনে যুক্তি রাখেন! হিসাব মেলাতে পারি না। অস্বাতন্ত্রিকও নয়। কঠিনতম উপলব্ধিকে ভেঙে চুরমার করে ঐশ্বরিক ও দৈবিক স্বরূপ অপরূপ দান করাই মূখ্য উপজীব্যসূত্র। রূপান্তর আর পরিবর্তন করার অভিনবত্বের বিষয়— যা সময়কে মিশ্র সৃজনশীলতায় অঙ্গীভূত করে। অঙ্গীকারবদ্ধ করে। চ্যালেঞ্জিং বিষয় সমাধানের উপায়-পথ খুঁজে বের করে। সুন্দরের পথ সৃজন করে। প্রশান্তির জয়ধ্বনি করে। ধ্বংসের সকলদ্বার রুদ্ধ করে।

পথিকবরের পথ চলতে সুবিধে হয়। মানুষ ও প্রাণীর। বিনোদিত আর বিমোহিত পৃথিবী দর্শকরা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে পারে। তাই কবিতা শুধু শব্দমুখর কথা গড়ার প্রাসাদ নয়: নতুন কিংবা পুরাতন সমধারার আশ্রয়ও নয়— তবে কথা আর ভাবের সর্বজনীন বিশ্বসংস্কৃতি বা গ্লোবাল কালচারেরই অঙ্গ। অঙ্গনে হৃদয় মাত্র একটি— এটিই কাব্য-কবিতা। যেখানে চিরকালের জাগতিক বাস্তবতার প্রাণ ও প্রাণীর সত্তাতাত্ত্বিক মৌহূর্তিক হাওয়া বহে নিরবধি। আর সতেজ নির্মল বাতাস। থাকে বেঁচে থাকার অভয়— যা সুস্থ সাময়িকীর আয়োজনে সম্ভবপর হয়— পৃথিবী বাঁচাতে পারেন শ্বাসকষ্ট ছাড়াই।

এক্ষেত্রে কবি শুধু স্বাধীনতা চায় না— মুক্তিও চায়। মুক্তি মেললেই বোঝা যায়: কবিতায় অঞ্জলি আছে, প্রেম আছে, প্রীতি আছে আর আছে নিগূঢ়তম ভালোবাসা। কবি ও কবিতায়ই ধর্ম ও রাজনীতি— তা অবশ্যই দলপন্থী, ঘৃণিত ও ছোঁয়াচে কলুষতামুক্ত হতেই হবে! তাহলেই কবিতা মানুষের হবে। সুন্দর পৃথিবীর হবে। জয় কবিতা। জয় কবি। জয় হোক কাব্যময় অনুভবের।

প্রকৃত কদাকার

অকারণে মুখ বন্ধ রাখো, সত্যের নগ্নতায় আরও;

সময়ের জামা নেই, পেছনের মানে নেই— তাই

এরা অতীতে বিবস্ত্র,

বর্তমানে আরো বেশি বিশ্রী...

আগামীর সময়ে প্রজন্ম আয়নার সামনে আয়না রাখবেই।

প্রাকৃতিক আইন

ঢাকা থেমে গেছে খারিজ করে,

মেশিন কোড ভিজিয়েছে ছুঁয়ে নগ্নতার কলে!

পানির ধর্ম সে পালন করে,

রসুয়া ভোতেকোশির করার কিছু নেই।

লেন্দের বরফধসের শোকে,

ভেসে গেছে প্রবাহিত স্রোতে মানুষ আর প্রয়োজন।

ঘোলাজল ঐ পাহাড়ের গায়ে;

মৃত্যুর মিছিলে বিষণ্ণতার চরম দাগ দিয়ে গেছে!

মানুষের করার কিছুই নেই, হিমালয়ের

হিমবাহ গলার তোড়ে! প্রাকৃতিক আইন খণ্ডাতে পারে না!

বরফের নদী জলবায়ুর দামে বিক্রি হয়েছে আগেই!

অসময়ের আগেই অনেক কিছু করার থাকে,

মুখ বুঝে প্রকৃতি কি সহ্য করে?

ছাব্বিশে আগস্ট, হে রাসূল প্রিয়বন্ধু!

এ কেমন উপহার তোমার? প্রাকৃতিক আইনে

খাঁটি তুমি! নেপালিরাও মানুষ, ঈশ্বর!

জগতে বেদনা ভাসে, হেসে যা-ও তুমি-কর্মাকর্মে...

চোখের জল আছে, নেই তত হিমবাহ বিস্ফোরণের!

একটি রজতরেখার কথা

মালিক এই দিনটাকে চিনে রেখো

দেখে নিও আগস্টের আয়নায় চেহারাটা আবার

বীভৎসতার একটি বিবশ দশাকে

কতটা ওলট-পালট করে

কত সম্পর্কের মতো সহজ আর বিচ্ছিন্নরঙা দরদ

গ্রাহ্য কর আগমনীর গান

নেপাল সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ প্রদর্শিত রূপ

অপরূপা রূপ কী-যে হয়!

কেউ বলতে পারে না তাকিয়ে সভ্যতা কোন দিকে

চলে যেতে পারে, জাতীয় সংসদ

অধিবেশন যা দিয়েছিল সত্য

সোনার মানুষেরা দাঁতে আর চোখে,

মেঘ নেমেছিল জলে,

বাংলাদেশ প্রতিদিন তার রজতরেখায়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত