ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আপনার জিজ্ঞাসা আমাদের উত্তর

মুফতি মাকসূদুল হক, মুফতি ও মুহাদ্দিস, গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসা, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ
আপনার জিজ্ঞাসা আমাদের উত্তর

প্রশ্ন : নারীদের জন্য মসজিদে ইতেকাফ করা কি বাধ্যতামূলক?

উত্তর : মসজিদে গিয়ে রমজানের শেষ ১০ দিন ইতেকাফ করা পুরুষদের জন্য সুন্নত, নারীদের জন্য নয়। তাই তারা ঘরে নিজের নামাজের জায়গায় ইতেকাফ করবেন, মসজিদে নয়। তবে যদি শরঈ পর্দা রক্ষা করে তারা মসজিদে ইতেকাফে বসেন, সে ব্যাপারে অনেক ফকিহ মাকরুহে তাহরিমি বলেছেন। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/১১৩)।

প্রশ্ন : নারীদের ইতেকাফের জন্য ঘরের সীমানা কতটুকু?

উত্তর : নারীরা ঘরে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদতের জন্য নির্ধারিত স্থানে ইতেকাফ করবেন। যদি আগ থেকেই ঘরে নামাজের জন্য কোনো স্থান নির্ধারিত না থাকে, তাহলে ইতেকাফের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করে নেবেন। সেখানেই ইতেকাফ করবেন। (হেদায়া : ১/২৩০)।

প্রশ্ন : নারীদের ইতেকাফের জন্য নির্ধারিত স্থান কি মসজিদের মতো?

উত্তর : হ্যাঁ, নারীরা ঘরের যে স্থানটিকে ইতেকাফের জন্য নির্ধারণ করবেন, তা মসজিদের মতো গণ্য হবে। মানবিক প্রয়োজন ছাড়া তারা সেখান থেকে বেরুতে পারবেন না। অন্যথায় ইতেকাফ ভেঙে যাবে। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ১/২১১)।

প্রশ্ন : বিবাহিতা নারীর ইতেকাফে বসার জন্য কি স্বামীর অনুমতি লাগবে?

উত্তর : হ্যাঁ, বিবাহিতা নারীকে রমজানের শেষ দশকের ইতেকাফ বা অন্য সময়ের নফল ইতেকাফের জন্য স্বামীর অনুমতি নিতে হবে। স্বামীর অনুমতি ছাড়া ইতেকাফ করা অনুচিত। তবে স্বামীরও উচিত, যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া স্ত্রীর ইতেকাফে বাঁধা না দেওয়া। তাদের ইতেকাফের সুযোগ দেওয়া চাই। এতে উভয়ই সওয়াব পাবেন। (ফতোয়ায়ে আলমগিরি : ১/২১১)।

প্রশ্ন : স্বামী স্ত্রীকে ইতেকাফে বসার অনুমতি দেওয়ার পর যদি বাঁধা দেন, তাহলে করণীয় কি?

উত্তর : স্বামী স্ত্রীকে ইতেকাফের অনুমতি দেওয়ার পর আর বাঁধা দিতে পারবেন না। বাঁধা দিলেও সে বাঁধা মানা স্ত্রীর জন্য জরুরি নয়। (ফতোয়ায়ে শামি : ৩/৪২৮)।

প্রশ্ন : ইতেকাফরত স্ত্রীর সঙ্গে কি স্বামী মেলামেশা করতে পারবেন?

উত্তর : ইতেকাফ অবস্থায় (রাতেও) স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা করা যাবে না। করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। (সুরা বাকারা : ১৮৭, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৮৫)।

প্রশ্ন : মাসিক বা সন্তান প্রসব পরবর্তী স্রাব চলাকালে ইতেকাফে বসা কিংবা ইতেকাফে বসে ওসবে আক্রান্ত হলে ইতেকাফের কোনো ক্ষতি হবে?

উত্তর : নারীদের ইতেকাফের জন্য মাসিক বা হায়েজ ও নেফাস বা সন্তান প্রসব পরবর্তী স্রাব থেকে পবিত্র হওয়া শর্ত। হায়েজ-নেফাস অবস্থায় ইতেকাফ সহিহ হয় না। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪)। তাই নারীদের ইতেকাফে বসার আগেই হায়েজ-নেফাসের দিন-তারিখ হিসাব করে বসা উচিত। যাতে ইতেকাফ শুরু করার পর পিরিয়ড শুরু না হয়ে যায়। তবে কারও রমজানের শেষ দশকে পিরিয়ড হওয়ার নিয়ম থাকলে তিনি পিরিয়ড শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতেকাফ করতেই পারেন। অবশ্য ওষুধ-বড়ি খেয়ে পিরিয়ড বন্ধ রেখে রোজা রাখলে ও ইতেকাফ করলে রোজা ও ইতেকাফ সহিহ হবে। ইতেকাফ শুরু করার পর পিরিয়ড শুরু হয়ে গেলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। পরে শুধু একদিনের ইতেকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত