ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নবুওয়তের নয়া ভণ্ড দাবিদার

মাওলানা সাইয়িদ আহমদ ওয়ামিজ নদবি
নবুওয়তের নয়া ভণ্ড দাবিদার

৮ নভেম্বর ২০১৮-এর কথা। ‘আহমদ ঈসা’ নামক এক অভিশপ্ত মাথা চারা দিয়ে উঠল। ‘নাবা সেভেন’ নামক নিজের ইউটিউব চ্যানেলে ছড়াতে লাগল নবুওয়তের মিথ্যা দাবি। সে একটি ভিডিও ক্লিপে ঘোষণা দিল, ‘আমার আল-কিতাবে এমন চ্যালেঞ্জ রয়েছে, দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই, এর অনুরূপ কিছু দাঁড় করাতে পারে। যেই কোরআন তোমাদের হাতে রয়েছে, তাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনা রয়েছে আমার (অর্থাৎ আল্লাহর রাসুল আহমদ ঈসা) সম্বন্ধে। যে ব্যক্তি আল-কিতাব পড়বে, সে এ কথার সাক্ষ্য দিতে বাধ্য হবে, আমিই আল্লাহর রাসুল।’ এ নরাধম নিজের ভিডিও ক্লিপে নবুওয়ত সম্পর্কে বেয়াদবিমূলক উক্তি করে বলেছে, ‘মুহাম্মদকে যারা শেষ নবী ও রাসুল হওয়ার বিশ্বাস করে, তারা স্পষ্ট মূর্খ; তাদের দাবি বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আর যা কিছু খতমে নবুওয়তের নামে করা হচ্ছে, তার সবটাই মূর্খতা ও ভ্রষ্টতা। দুনিয়ার কোনো শক্তি যদি মুহাম্মদের শেষ নবী হওয়ার ওপর প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমি যেকোনো শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত।’ তার এ ‘আল-কিতাব’-এ স্পষ্টাক্ষরে লেখা আছে, ‘মুহাম্মদ না শেষ নবী, আর না সর্বশেষ রাসুল। এমনকি তোমরা যে বলো- মুহাম্মদ আমাদের রাসুল, মুহাম্মদ তোমাদের রাসুলই নন। মুহাম্মদকে তোমাদের মাঝে তোমাদের জন্য প্রেরণ করা হয়নি। সে না তোমাদের ভাষাভাষী, আর না তোমাদের রাসুল।’

ভণ্ড দাবিদার আহমদ ঈসার পরিচয় : আহমদ ঈসার মূল নাম ‘আদনান নজির আরাঈ’। সে পাকিস্তানের গুজরাত প্রদেশের উল্লেখযোগ্য শহর ‘খাটানা’র অধিবাসী। জীবনের শুরু থেকেই সে বিভিন্ন কুকর্মে জড়িত। একবার তার গ্রামের কিছু যুবক তার সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত হলো। তার বাবা তাকে খুব করে বোঝাল। তবু সে ফিরল না। শেষমেষ সেই যুবকদের হাতে-পায়ে ধরল। এরপর তারা তাকে বিরত রাখার জন্য বলল। কিন্তু সে তাদের কথা তো মানলই না, উল্টো তাদের বিরুদ্ধে ‘এফআই’ করার ধমকি দিয়ে আট লাখ টাকা উসুল করে নিল। তার আর্থিক অবস্থা খুবই অস্বচ্ছল ছিল। তার বাবা রেলস্টেশনে আইসক্রিম বিক্রি করত। কিছুদিন আগে সে স্পেনে গিয়ে কাদিয়ানিদের সঙ্গে ওঠাবসা আরম্ভ করে দিল। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর পাকিস্তান ফিরে আসে। তার বাবার ইন্তেকালের পর এলাকার ইমাম সাহেব তার জানাজার নামাজ পড়াতে অস্বীকার করেন। বাবার মৃত্যুর পর এ কুলাঙ্গার পুনরায় স্পেনে চলে যায়। সেখানে গিয়ে সর্বপ্রথম ভিডিও ক্লিপ আপলোড করে। যাতে নিজের নবুওয়তের দাবি করে বসে। গ্রামবাসীরা তার নবুওয়তের মিথ্যা দাবির খবর জানতে পেরে তার বাড়ি হাজির হয়। বাড়িতে তাকে না পেয়ে তার শ্বশুরবাড়ি ‘লালামোছা’ নামক এলাকায় পৌঁছে। সেখানেও তার দেখা মেলে না। ১০ নভেম্বর ২০১৮-এর কথা। তার ভাই তার স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে স্পেন পালিয়ে যায়। যে ব্যক্তি বাল্যকাল থেকেই কুকর্মে লিপ্ত এবং যার চরিত্র কালিমাযুক্ত, নবুওয়তের সঙ্গে তার কী কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে?

নাবা সেভেন ও তার ভণ্ডামি : নবীদের জীবন ও চালচলন তাদের জীবনের সূচনা থেকেই পবিত্র ও নিষ্কলুষ থাকে। আহমদ ঈসা মূলত ইহুদিদের অনুচর বা দালাল। আসলেই সে ধন-সম্পদ আর প্রসিদ্ধির আশায় ইহুদিদের আঙুলের ইশারায় নাচছে। ইহুদিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের একটা প্রমাণ মেলে তার ইউটিউব চ্যানেলের নামকরণের প্রতি লক্ষ্য করলেই। ‘নাবা সেভেন’ হিব্রুভাষার শব্দ। যার অর্থ ‘ভবিষ্যতের খবর প্রদানকারী’। খতমে নবুওয়তের আকিদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আকিদা-বিশ্বাস তো একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়, কোরআন-হাদিস ও উম্মতের সর্বসম্মত মতের মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর শেষ নবী হওয়া এবং তার মাধ্যমে নবুওয়তের ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি একদম স্পষ্ট। আল্লাহ বলেন, ‘মুহাম্মদ (সা.) তোমাদের কারোর বাবা নন, তিনি তো আল্লাহর রাসুল ও শেষ নবী।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার পরে ত্রিশজন মিথ্যবাদী আত্মপ্রকাশ করবে। যার প্রত্যেকেই ধারণা করবে, সে নবী। অথচ আমি সর্বশেষ নবী। আমার পরে আর কোনো নবী আসবে না।’ (সুনানে আবি দাউদ)।

খতমে নবুওয়তের ওপর প্রমাণ বহনকারী বর্ণনাসমূহ ধারাবাহিক পর্যায়ে পৌঁছেছে; যা অস্বীকার করা কুফরি। সুরা বাকারার শুরুর আয়াতগুলোয় বলা হয়েছে, ‘মোমিন তারাই, যারা তোমার ও পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাবের ওপর ঈমান আনে।’ যদি রাসুল (সা.)-এর পর নবুওয়তের ধারাবাহিকতা বজায় থাকত, তাহলে এ আয়াতে এটাও উল্লেখ থাকত, মুত্তাকি বান্দারা আপনার পরে আগত কিতাবের ওপরও ঈমান রাখে। এটা উল্লেখ না করাই রাসুল (সা.)-এর পর কোনো নবীর আগমন না হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে।

অভিশপ্ত মিথ্যুক আহমদ ঈসা স্বীয় ভিডিও ক্লিপে নিজের নবুওয়ত প্রমাণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি যে কথাটি জোরে-শোরে প্রচার করছে, তা হলো- মুহাম্মদ শেষ নবী না এবং তাকে ভারত উপমহাদেশের জন্য নবী করে প্রেরণ করা হয়নি। তার ভাষ্যমতে- ‘মুহাম্মদ না তোমাদের ভাষাভাষী, আর না তোমাদের মাঝে তোমাদের জন্য তাকে প্রেরণ করা হয়েছে।’

এ মিথ্যুকের কোরআন-হাদিস সম্বন্ধে যদি সামান্য জ্ঞানও থাকত, তাহলে সে এ ধরনের বাজে প্রলাপ বকত না। প্রিয় নবী (সা.)-কে গোটা বিশ্বের জন্য প্রেরণ করা এমন এক বাস্তবতা, যার ওপর কোরআনের দশটি আয়াত প্রমাণ করে। যেমন- আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুল! আপনি বলুন, লোকসকল! আমি তোমাদের সবার জন্য প্রেরিত রাসুল।’ আয়াতে ‘সবার জন্য’ এবং ‘মানুষ’ শব্দ টি স্পষ্ট। যার অর্থ- সকল মানুষ। কেয়ামত পর্যন্ত সকল ভাষাভাষী ও সমস্ত দেশের মানুষ এর অন্তর্ভুক্ত; চাই সে আরবি হোক কিংবা অনারবি। কোরআনের অপর সুরায় এসেছে- ‘আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ সুরা ফোরকান শুরু হয়েছে এ আয়াতের মাধ্যমে। যার অর্থ- ‘মহাপবিত্র ওই সত্তা, যিনি ফোরকান অবতীর্ণ করেছেন, যেন তিনি সারা বিশ্বের জন্য ভীতিপ্রদর্শনকারী হতে পারেন।’ পূর্ববর্তী নবী এবং সর্বশেষ নবীর মাঝে মৌলিক পার্থক্য হলো, পূর্ববর্তী নবীগণকে এক বিশেষ সম্প্রদায়, বিশেষ এলাকা ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রেরণ করা হতো। কিন্তু আল্লাহ যখন সর্বশেষ নবী প্রেরণ করার ইচ্ছা করেন, তাকে সমগ্র জাতি ও কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য ‘নবী’ বানিয়ে পাঠালেন।

যখন রাসুল (সা.) কেয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের নবী, তখন ভিন্ন কোনো নবী প্রেরণের কি অবকাশ থাকতে পারে? আর ঈসা (আ.)-এর বিষয় তো স্পষ্ট, তিনি কেয়ামতের আগে যতদিন দুনিয়ায় থাকবেন, ততদিন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শরিয়তের অনুসারী হয়ে থাকবেন। এমনকি সে অনুযায়ী আমল করবেন। এ অভিশপ্ত কুলাঙ্গারের সঙ্গে অনেক মুসলিম ভাই মোনাজারা করার চ্যালেঞ্জ করেছে। তার ইন্টারভ্যু নেওয়ার আহ্বান করেছে। কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। একদিকে সে ভিডিও ক্লিপে সমগ্র মুসলিমজাতিকে চ্যালেঞ্জ করছে, ‘কোনো ব্যক্তি আল-কিতাবকে খণ্ডন করে দেখাক অথবা কেউ মুহাম্মদকে শেষ নবী প্রমাণ করুক।’ অপরপক্ষ থেকে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ইউটিউব লাইভে আসার আহ্বান করা হচ্ছে। কিন্তু তখন সে চুপ হয়ে যাচ্ছে। কিছু লোকের মন্তব্য হলো- ‘সে মূলত আইএসের অনুচর ও ইহুদি সংগঠনের এজেন্ট।’

আহমদ ঈসাকে একজন স্বাভাবিক মানুষ বলে মনে হয় না; বরং সে মস্তিষ্কবিকৃত ও মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত। ফলে তার নিজেরই খবর নেই, সে কোন ধরনের প্রলাপ বকে যাচ্ছে। জীবনের শুরু থেকেই তার বিষয়টা সংশয়পূর্ণ। আদতে সে ভালো মানুষও না। তার ভিডিও ক্লিপ থেকে বুঝে আসে, তার জ্ঞান একদমই ভাসাভাসা ও সামান্য। হতে পারে, সে ইসলামণ্ডবিষয়ক প্রাথমিক দুয়েকটি বই অধ্যয়ন কিংবা কারো সঙ্গে ওঠাবসা করে ইসলাম সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা অর্জন করে থাকবে। কিন্তু এ ব্যাপারে যে তার বুঝের স্বল্পতা ও ইসলাম সম্পর্কে তার ধারণা একেবারেই সামান্য ও নগণ্য, সেটা একদমই স্পষ্ট।

তার রচিত বই ‘আল-কিতাব’-এ ভাষা ও ব্যাকরণের বিবেচনায় অসংখ্য ভুল বিদ্যমান। এর চেয়েও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এ বইয়ে মৌলিক কোনো বিষয়ের আলোচনা নেই। এটাও বুঝে আসে না, সে বইটিকে কোন রীতিনীতির ওপর লিখেছে! পাশাপাশি বইটি বিভিন্ন বৈপরীত্ব বিষয়ে ভরপুর। যেসব ভাই বইটি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে পড়েছেন, তাদের ভাষ্য হলো- ‘আহমদ ঈসা বইটিতে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কিছু কথা লিখেছে। তার নিজেরও উপলব্ধি নেই, আসলে সে কি লিখেছে!’ এমন অনেক কথা সে তার বইয়ে উল্লেখ করেছে, যা তার ভিডিও ক্লিপে নিজেই প্রত্যাখ্যান করেছে। যেমন- একদিকে সে রাসুল (সা.)-এর নবী হওয়াকে অস্বীকার করছে, অপরদিকে তার ওপর অবতীর্ণ হওয়া কোরআনকে নিজের দলিল হিসেবে পেশ করছে। যখন রাসুল (সা.)-কে-ই অস্বীকার করছে, তখন তার ওপর অবতীর্ণ হওয়া কিতাব দিয়ে কীভাবে দলিল পেশ করা যেতে পারে! এ ছাড়া কোরআনকেই ‘আল-কিতাব’ বলা হয়েছে। যেমন- সুরা বাকারার প্রথম আয়াতে আছে- ‘যা লিকাল কিতাবু লা রাইবা ফি-হ।’ অথচ এ মিথ্যুক নিজের বইয়ের সঙ্গে এ নামকে যুক্ত করে দিয়েছে। একদিকে তার ভিডিও ক্লিপে নিজের সম্পর্কে দৃঢ়ভাবে চ্যালেঞ্জ করে বলছে- ‘কেউ একে মিথ্যা প্রমাণ করে দেখাক।’ অপরদিকে সে স্পষ্ট করছে না, এ বই কোত্থেকে ছাপা হয়েছে এবং কোথায় পাওয়া যাবে! ধারণা করা হচ্ছে, সে তার বইয়ের শুধু পিডিএফ বানিয়ে খুব গর্বভরে পেশ করছে।

কোরআন সম্পর্কেও এ পথভ্রষ্ট মিথ্যা, বাজে ও ভিত্তিহীন কথা বলেছে। তার ভাষ্যমতে- ‘কোরআন শুধু ইতিহাসের কিতাব। যার অর্ধেকের বেশিই আমার ইতিহাস রয়েছে।’ কেমন যেন সে বলতে চায়- ‘কোরআনে যেই ঈসার আলোচনা রয়েছে এবং মুসলমানরা যেই ঈসার আগমনের অপেক্ষায় আছে, সেই ঈসা আমিই (নাউজুবিল্লাহ)।’ সে নিজের নবুওয়ত প্রমাণ করার জন্য তেমনই নাটক সাজিয়েছে, যেমনটা প্রহসন দেখিয়েছিল মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি। সেও নিজেকে ‘প্রতিশ্রুত মাহদি’ বলত। এরপর নবুওয়তের দাবি করতে শুরু করেছিল। অথচ বাস্তবতা হলো, কোরআনে পূর্ববর্তী সম্প্রদায় ও নবীদের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু এর কারণে সম্পূর্ণ কোরআনকে ইতিহাসের কিতাব বলে চালিয়ে দেওয়া ভ্রষ্টতা ছাড়া কিছুই নয়। এটা বলাও ভুল, কোরআনের অর্ধেক ঈসা (আ.)-এর আলোচনা সংবলিত। বরং ঈসা (আ.) অপেক্ষা তার মা মারইয়াম (আ.)-এর আলোচনা বেশি রয়েছে।

মোটকথা, অভিশপ্ত আহমদ ঈসা উম্মতে মুহাম্মদির জন্য এক নতুন ফেৎনা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উম্মতের অতন্দ্র প্রহরী উলামায়ে কেরাম যেভাবে নবুওয়তের মিথ্যা দাবিদার অভিশপ্ত মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানির ভ্রষ্টতার মুখোশ উন্মোচন করেছেন, ঠিক তেমনি বর্তমান দাবিদার আহমদ ঈসার মুখোশও উন্মোচন করছেন। আর সেও একদিন মির্জার মতো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারী ভাইদের উচিত হবে, এ জাতীয় ধোঁকাবাজ ও মিথ্যুকদের থেকে দূরে থাকা। আর এ বিশ্বাস অন্তরে বদ্ধমূল রাখা, প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.)-ই সর্বশেষ নবী। তার পরে যে নবী হওয়ার দাবি করবে, সে ভণ্ড, মিথ্যাবাদী, ধোঁকাবাজ ও পথভ্রষ্ট।

অনুবাদ : মুফতি ইউসুফ হুসাইন

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত