ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

দেওবন্দের অনন্য স্থাপন

হুমাইদুল্লাহ তাকরিম
দেওবন্দের অনন্য স্থাপন

ভারতের উত্তর প্রদেশে অবস্থিত বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের অনন্য স্থাপনা মসজিদে রশিদ। মসজিদটি দারুল উলুমের প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম মুফতি রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি (রহ.)-এর নামে নামকরণ করা হয়েছে। তাজমহল আর দিল্লির শাহি জামে মসজিদের নকশার এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে এ স্থাপনায়। অভিনব কারুকাজ ও সম্পূর্ণ মার্বেল পাথরে করা নান্দনিক ও চিত্তাকর্ষক নকশা যে কাউকে দারুণভাবে মুগ্ধ করে। মসজিদের মেঝে, রেলিং, দেয়াল, গম্বুজ ও মিনারসহ সবই সাদা মর্মর ও বেলে পাথর দিয়ে করা হয়েছে। শুধু পাথরগুলো দেয়াল বা মেঝেতে বসানো হয়নি, বরং পাথর কেটে করা হয়েছে বিভিন্ন নকশা।

সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, মসজিদটি উত্তর প্রদেশের ৪৪-৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায়ও শীতল। তিনতলা বিশিষ্ট এ মসজিদের ভেতরে প্রায় আট হাজার মানুষ একযোগে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরের অংশসহ মোট ১৮ হাজার মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। ১৯৮৬ সালে মসজিদের নির্মাণকাজ শুরু হয়, চলে টানা ১২ বছর। মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে দশ কোটি রুপি।

মসজিদটি উদ্বোধন করেন মাওলানা হাকিম আবদুর রশিদ মাহমুদ (রহ.), মুফতি মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহি (রহ.), সাইয়িদ আসআদ মাদানি (রহ.), মাওলানা মুহাম্মদ ওমর পালনপুরি (রহ.)-এর মতো বিখ্যাত বজুর্গরা। এ মসজিদ নির্মাণের কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন দারুল উলুম দেওবন্দের ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা আবদুল খালেক মাদ্রাজি। মসজিদে প্রবেশের পাঁচটি রাস্তা রয়েছে। মসজিদের ছাদে স্থাপিত বিশাল গম্বুজ এবং এর উভয় পাশে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন দুটি উঁচু মিনার রয়েছে; যা মসজিদের সৌন্দর্যকে আরও বর্ধিত করেছে। মসজিদটি দেখার জন্য দূর-দূরান্তের দর্শনার্থীরা ভিড় করেন এবং বরকতের নিয়তে এখানে দু’রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত