ঢাকা রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মিরসরাইয়ে এক বছরে ২০ ট্রান্সফরমার চুরি

মিরসরাইয়ে এক বছরে ২০ ট্রান্সফরমার চুরি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির হিড়িক পড়েছে। গত ১২ মাসে উপজেলা ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় ২০টি ট্রান্সফমার চুরি হয়েছে। সর্বশেষ ২৭ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের অধীনে জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্যম সোনাপাহাড় এলাকা ও হিঙ্গুলী ইউনিয়নের আজমনগর এলাকা থেকে ২টি ট্রান্সফমার চুরি হয়।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যু সমিতি-৩ বারইয়ারহাট জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে ওই কার্যালয়ের অধিনে ১৩টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে মে মাসে ৫ কেভির একটি, জুন মাসে ১৫ কেভির একটি, জুলাই মাসে ১৫ কেভির একটি, ১০ কেভির দুই, ৫ কেভির একটি, সেপ্টেম্বর মাসে ১০ কেভির দুইটি, ২৫ কেভির একটি, নভেম্বর মাসে ১০ কেভির একটি ও ১৫ কেভির দুইটি, ডিসেম্বর মাসে ১০ কেভির একটি ও ১৫ কেভির একটি । চুরি যাওয়া ১৩টি ট্রান্সফরমারের আনুমানিক মূল্য সাড়ে ১১ লাখ টাকা। বারইয়ারহাট জোনাল অফিসের ডিজিএম হেদায়েত উল্ল্যা বলেন, একটি ট্রান্সফরমার চুরি হলে ওই এলাকার গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমারের আওতায় থাকা গ্রাহকরা অর্ধেক মূল্য পরিশোধ করলে নতুন ট্রান্সফরমার পেয়ে থাকে। ফলে ট্রান্সফরমার চুরি রোধে গ্রাহকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। তবে প্রত্যেকটি চুরির ঘটনায় আমরা মামলা দায়ের করেছি। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ সীতাকুণ্ড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কার্যালয়ের অধীনে মিরসরাই উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। ৫টি ইউনিয়নের অধীনে ৩টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ১০ কেভির দুইটি ও ১৫ কেভির একটি। গত ২৯ নভেম্বর হাদিফকির হাট এলাকায় অবস্থিত গ্রামীণ ফোনের টাওয়ার থেকে ট্রান্সফরমারগুলো চুরি হয়। এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

মিররাই জোনাল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই অফিসের অধীনে ৪টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এগুলোর মধ্যে জুন মাসে ৫ কেভির একটি, নভেম্বর মাসে ৫ কেভির দুইটি ও ২৫ কেভির একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। চুরি হওয়া এসব ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা।

জানা গেছে, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকে মূল্যবান তামার তার। এসব তার ফ্যানের কয়েলসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। চোরের দল ট্রান্সফরমার চুরি করে ভেতরে থাকা তামার তার নিয়ে অন্যান্য যন্ত্রাংশ ফেলে দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ এসব তামার তার বিভিন্ন বাজারের থাকা ভাঙারি দোকানে বিক্রি হয়ে থাকে। তাই প্রশাসন ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে এসব তামার তার উদ্ধার করলে চোর শনাক্ত করা সহজ হবে।

এদিকে বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য মতে একটি ৫ কেভির ট্রান্সফরমারের মূল্য ৫৩ হাজার টাকা, ১০ কেভির মূল্য প্রায় ৮৩ হাজার টাকা, ১৫ কেভির ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা ও ২৫ কেভির একটি ট্রান্সফরমারের মূল্য প্রায় এক লাখ ৫৯ হাজার টাকা। প্রথমবার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্ধেক টাকা নিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। কিন্তু দ্বিতীয়বার চুরি হলে পুরো মূল্য চুকিয়ে নতুন ট্রান্সফরমার আনতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ মিরসরাই জোনাল অফিসের ডিজিএম আদনান আহম্মেদ বলেন, আমরা ট্রান্সফরমার চুরি রোধে বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করেছি। গ্রাহকদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত