
বন্দিদের স্বজনদের সঙ্গে সরাসরি ও সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ওয়ান-টু-ওয়ান ইন্টারকম টেলিফোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কোলাহলপূর্ণ সাক্ষাৎ কক্ষে বন্দিদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চালু করা হয়েছে এ ইন্টারকম সুবিধা।
এতদিন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার প্রচলিত পদ্ধতিতেই স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে হতো বন্দিদের। নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই পুরোনো চিত্র বদলাতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দির ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দি থাকেন। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দি থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, যা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট বসানো হচ্ছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দি কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দিদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দিদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে। বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত অমানবিক। লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পারেন না। মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিটের সুযোগ মিললেও এই শোরগোলের কারণে অনেক সময় জরুরি আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। তিনি আরও বলেন, নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থা চালুর ফলে কারাভোগী ও তাদের স্বজনরা এখন সুবিধাজনকভাবে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে বন্দিদের খাবারের মান উন্নয়নে কাজ করার কথাও উল্লেখ করেন। প্রসঙ্গত, বেসরকারি কারা পরিদর্শক প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিনের প্রস্তাবে আইজি প্রিজন ও জেলা প্রশাসনের অনুমোদনক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন (আশ ফাউন্ডেশন)।