
নিজ বিভাগের অফিস কক্ষে কর্মচারীর হাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় অভিযুক্ত দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বরখাস্তকৃত তিনজন হলেন-সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস। গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক সই করা পৃথক তিনটি অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ মার্চ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যান বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক মোছাঃ আসমা সাদিয়া রুনা-এর হত্যাকান্ডে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪ অনুসারে থানায় প্রাপ্ত আমলযোগ্য অপরাধের প্রাথমিক তথ্যে আপনার নাম উল্লেখ থাকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরী শৃঙ্খলা বিধির ১৫(ন) ধারা অনুযায়ী আপনাকে গত ০৫-০৩-২০২৬ তারিখ থেকে চাকুরী হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। উল্লেখ্য, বরখাস্তকালীন আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক জীবন ধারন ভাতা প্রাপ্ত হবেন। জানা যায়, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইবি শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনাকে হত্যার পর বৃহস্পতিবার সকালে নিহতের স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় কর্মচারী ফজলুর রহমানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অপর তিন আসামী হচ্ছেন - সাবেক কর্মচারী উপ রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। ইতোমধ্যেই আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা প্রধান আসামি ফজলুকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ইবি শিক্ষিকা হত্যাকাণ্ড তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা নিজ অফিস কক্ষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।
তদন্ত কমিটিতে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) গোলাম মাওলাকে সদস্য সচিব, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, লালন শাহ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. গাজী আরিফুজ্জামান খানকে সদস্য করা হয়েছে।