ঢাকা রোববার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের শুনানি আজ

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের শুনানি আজ

বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি ধারা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি অনুষ্ঠিত হবে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। এর আগে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৬ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে মর্মে মুলতবি করেছিলেন।

সেদিন রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। ইন্টারভেনর হিসেবে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

গত ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া। তৎকালীন রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেছিলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীতে যদি পদ্ধতিগত ত্রুটি থাকে, তাহলে একবারেই পুরোটা বাতিল করা সম্ভব।” এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ ঘোষণা করেন। সেই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করেন।

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়, গণতন্ত্র সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ এবং এটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিকশিত হয়। তবে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হয়নি। ফলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঘটে। হাইকোর্টের মতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছিল। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ বাতিল ঘোষণা করে। এছাড়া পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংযোজন, পরিমার্জন ও প্রতিস্থাপন আনা ৫৪টি ধারা বিশ্লেষণ করে। হাইকোর্ট নির্ধারণ করেন, সম্পূর্ণ পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা হচ্ছে না, বাকি বিধানগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

গণভোটের বিষয়েও হাইকোর্ট মন্তব্য করে, পঞ্চদশ সংশোধনী আইন অনুযায়ী সংবিধানের ১৪২ ধারা বাতিল করা হয়েছিল, যা দ্বাদশ সংশোধনীতে যুক্ত। এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় পুনর্বহাল করা হয়েছে।

হাইকোর্টের রায়ে ৭ক, ৭খ ও ৪৪(২) ধারা বাতিল করা হয়েছে। ৭ক ধারায় সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ ইত্যাদি অপরাধ উল্লেখ ছিল। ৭খ ধারায় সংবিধানের মৌলিক বিধান সংশোধন অযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছিল। ৪৪(২) ধারায় মৌলিক অধিকার প্রয়োগ সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা ছিল। এই ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায় হাইকোর্টের বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৩৯ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এর পরে ৩ নভেম্বর আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া আপিল দায়ের করেন। ১৩ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্ট আপিলের অনুমোদন দেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত