ঢাকা রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চট্টগ্রামে মামলার তুলনায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অপ্রতুল

চট্টগ্রামে মামলার তুলনায় মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অপ্রতুল

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়তই জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে অপরাধের মাত্রাও। এতে করে নাগরীর আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর যেমন অবনতি হচ্ছে তেমনি বাড়ছে আইনি জটিলতা বা দীর্ঘসূত্রতা। এক্ষেত্রে প্রশাসনিক অবকাঠামোগত দুর্বলতাই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র জানায়, গত ১৮ বছরে বাড়েনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা। বর্তমানে মাত্র ৮টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে ৬৯ হাজার ৭১টি মামলা। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৯৪৯ এবং ২০২৫ সালে ৬৬ হাজার ২৪৯। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১০ হাজার। আদালতের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় মামলার জট সৃষ্টির পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের দুর্ভোগও বেড়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি অতিরিক্ত তিনটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ২০টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কর্মকর্তারা।

আদালত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ১৬ থানার বিপরীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রয়েছে মাত্র ৮টি। থানার সংখ্যা বিবেচনায় অন্তত ১৬টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থাকা প্রয়োজন। আদালতের সংখ্যা বাড়ানো হলে মামলা নিষ্পত্তির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আদালতের সংখ্যা কম হওয়ায় মামলা নিষ্পত্তির তুলনায় নতুন মামলা দায়েরের সংখ্যা বেশি। ফলে প্রতিবছর বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসিতে বিচারাধীন মামলার যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত কমাতে নতুন আদালত প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিচ্ছেন আইনজীবী, আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকরা। আদালত সূত্র জানা যায়, ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯ হাজার ৯৪৯টি। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬ হাজার ২৪৯টিতে। এর মধ্যে ৩৯ হাজার ৮১৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৬৯ হাজার ৭১টি। গত জুন মাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৫ হাজার ৭২৮টি মামলা দায়ের হয়েছে। জুলাই মাসে দায়ের হয়েছে ৫ হাজার ৪৫০টি মামলা। এ হিসাবে গত দুই বছরে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বেড়েছে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগরী চট্টগ্রামে অর্ধকোটি মানুষের বসবাস। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই মহানগরীতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংখ্যা মাত্র ৮টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এর ফলে মামলার জট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে বিচার কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় আপাতত আরও পাঁচটি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। জেলা আইনজীবী সমিতি ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সূত্র জানায়, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সময় সাতটি আদালতের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০০৮ সালে আরও একটি আদালত বাড়ানো হয়। এরপর গত ১৮ বছর ধরে ওই আটটি আদালত দিয়েই চলছে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির কার্যক্রম। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত অসংখ্যবার আদালতের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও নতুন আদালত প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত আদালতের সংখ্যা না বাড়ালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আগামী দিনে আরও বহুগুণে বাড়বে। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহমদ জানান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে প্রায় ৭০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চিঠি চালাচালি ও যোগাযোগ করা হয়েছে। আদালতের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় শুধু আইনজীবী নয়, সাধারণ মানুষও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মামলার চাপ বাড়লেও আদালতের সংখ্যা না বাড়ায় বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ সময় আদালতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একেকটি মামলার তারিখ পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মঈনুদ্দীন জানান, আদালতে আইনজীবীদের প্রবেশ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও কাজ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। আর গরমের সময়ও প্রচণ্ড ভোগান্তি পোহাতে হয়। আদালতের বর্তমান পরিবেশ খুবই নাজুক ও দুর্বিষহ। জায়গার সংকট, বৃষ্টি ও গরমসহ নানা সমস্যার কারণে আইনজীবীদের কষ্টের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী জানান, চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিদিনই মামলার সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু গত ১৮ বছরেও আদালতের সংখ্যা বাড়েনি। আদালত বাড়ানোর বিষয়ে গত ৩ জানুয়ারি মাসে তিনটি অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ২০ টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপনের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি বা হালনাগাদ তথ্য আমরা পাইনি। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সময় সাতটি আদালতের সমন্বয়ে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ২০০৮ সালে আরও একটি আদালত বাড়ানো হয়। এরপর গত ১৮ বছর ধরে ওই ৮টি আদালত দিয়েই চলছে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যক্রম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত