ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

চলতি মৌসুমে চন্দনাইশে ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

চন্দনাইশ উপজেলার শঙ্খ নদীর তীরবর্তী দোহাজারী, লালুটিয়া, পাহাড়ি এলাকা ধোপাছড়ি, পার্শ্ববর্তী সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াইশ, পুরানগড়, আমিলাইশ, বাজালিয়া এলাকায় শঙ্খের চরে ও তীরে শীতকালীন রকমারি সবজি উৎপাদন হচ্ছে। চলতি মৌসুমে সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২২১ হেক্টর জমিতে ৪৪ হাজার ৪২০ টন। যার বর্তমান মূল্য ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত অর্থ বছরে উৎপাদন হয়েছিল ৪৬ হাজার ৪৪৬ টন। ফলে চলতি মৌসুমে প্রায় ২ হাজার টন সবজি কম উৎপাদন হচ্ছে। শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীতে চর উঠে। কৃষকেরা এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শঙ্খের পাড়ে এবং ভেসে উঠা চড়ে শীতকালীন বিভিন্ন বাহারি সবজি চাষ করে থাকে। বিশেষ করে শঙ্খ নদীর চর দোহাজারী রেলওয়ে মাঠ থেকে লালুটিয়া পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ব্যাপকভাবে সবজির চাষ হয়। শঙ্খের পাড়ের কৃষকেরা প্রতি বছর এ মৌসুমে নদীতে জেগে উঠা চর, শঙ্খের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির সবজির আবাদ করে চলেছে। তারা মৌসুমের শুরুতে শীতকালীন সবজি বের করে চড়া মূল্যে বিক্রির মাধ্যমে লাভবান হবেন। চলতি মৌসুমে সবজির উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ২২১ হেক্টর জমিতে ৪৪ হাজার ৪২০ মেট্টিক টন। যার বর্তমান মূল্য ১৭৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত ১৬ অক্টোবর থেকে শীতকালীন রবি মৌসুম শুরু হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকেরা সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে সবজির পাশাপাশি মরিচ-৩৪৫ হেক্টরে উৎপাদন ৪৮৩ টন, আল-৪১৩ হেক্টরে ৫৮০ টন, ফেলন-৩২৮ হেক্টরে ৩৬০ মেট্রিক টন, মিষ্টি কুমড়া-৯৩ হেক্টরে ১৮৬০ টন, সরিষা-১৭৪ হেক্টরে ২০৮ টন, বাদাম-৫০ হেক্টরে ৭০ টন, ভুট্টা-১৫ হেক্টরে ১৪৩ টন, গম-২ হেক্টরে ৬ টন, পেঁয়াজ-৪ হেক্টরে ১৩২ মেট্রিক টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। কৃষকেরা জানান, শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির আবাদ শুরু হওয়ার পাশাপাশি শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চড়ে সবজির আবাদে এখন তারা লাভের মুখ দেখছেন। কারণ শঙ্খ নদীর পাড়ে ও জেগে উঠা চড়ে সবজির ফলন ভালো হয়। নদীতে জেগে উঠা চরের খাজনা দিতে হয় না কৃষকদের। ফলে দিন দিন বাড়ছে শীতকালীন সবজির আবাদ। এ সকল এলাকায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে, শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চড়ে কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পাড় করছে। শঙ্খ নদীর পাড় যেন সবুজ চাদরে ডাকা মাঠ। সেখানে বেগুন, মুলা, কপি, বরবটি, শিম, ঢেড়সসহ বিভিন্ন শাক-সবজির চাষ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজি উৎপাদন করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে। যে সকল কৃষকদের বাড়ি নদীর পাড়ে তারা পাশ্ববর্তী নদীর পাড়ে সবজি চাষাবাদ করে থাকেন। আবার অনেকে নদীতে জেগে উঠা চড়ে সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছে। বর্তমানে শঙ্খ নদীর লালুটিয়া থেকে ধোপাছড়ি শেষ সীমানা পর্যন্ত শঙ্খ নদীর উভয় পাড়ে ও জেগে উঠা চরে বেগুন, লাউ, শিম, মূলা, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন প্রজাতির শাক শীতকালীন রকমারি সবজিতে ভরে গেছে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী মাঠের পাশাপাশি দুই পাড় ও নদীর চর। কৃষক-কৃষনারীও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে সবজি ক্ষেত পরিচর্যায়। যেন অবসর নেই তাদের। কেউ সবজি ক্ষেতে নদী থেকে পানি তুলে সেচ দিচ্ছেন, কেউবা স্প্রে, কেউবা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছে। এ সকল এলাকার কৃষকেরা সকালে সবজি ক্ষেত থেকে সবজি তুলে পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী কাঁচা বাজার দোহাজারী রেলওয়ে মাঠে প্রতিদিন নিয়ে আসে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে। এসব কৃষকদের মধ্যে দিয়াকুলের বেলাল উদ্দীন ও জাহেদুল ইসলাম জানান, শঙ্খ নদীর তীরবর্তী জমির পাশাপাশি শঙ্খ নদীর পাড়ের ভিতরের অংশে ও নদীতে জেগে উঠা চরে মৌসুমী শীতকালীন সবজি চাষাবাদ করে তারা লাভবান হয়েছে। কারণ নদীর তীরবর্তী জমিতে খাজনা দিতে হয়, নদীর ভিতরের অংশের পাড়ে ও জেগে উঠা চরে খাজনা দিতে হয় না। তাছাড়া নদীতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে নতুনভাবে পলি পড়ার কারণে মাটি উর্বর থাকে। ফলে সবজি চাষ করতে সার তেমন দিতে হয় না।

তারা বলেন, শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীর পাড়ে ও চরে শীতকালীন সবজির মধ্যে বেগুন, মূলা, বরবটি, তিতকরল, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ভেন্ডী, ফুলকপি, বাধাকপি, টমেটো, শিম, বিভিন্ন প্রকারের শাকসবজির চাষ করা হয়। বর্তমানে পুরোদমে শীতকালীন সবজির চাষাবাদ চলছে। বিশেষ করে হাইব্রিড সবজি চাষের কারণে খুব দ্রুত ফলন পাওয়ায় তারা সবজি বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে বলে জানান। এভাবে চলবে ২ থেকে ৩ মাস। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আজাদ হোসেন বলেছেন, চন্দনাইশের শঙ্খনদী তীরবর্তী এলাকার পাশাপাশি শীত মৌসুমে শঙ্খ নদীতে জেগে উঠা চরে ও নদীর পাড়ের ভিতরের অংশে প্রচুর পরিমাণে শীতকালীন সবজি উৎপাদন হয়।

চলতি বছর বন্যার কারনে দোহাজারী, বৈলতলী, বরমাতে পলি পড়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এবারে সবজিতে বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষিবিভাগের লোকজন কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও বীজ রোপনে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। এ এলাকার উৎপাদিত সবজি চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকেরা শঙ্খ নদীর পাড়ে ও জেগে উঠা চরে বেশকিছু এলাকায় শীতকালীন সবজি সময়মত উৎপাদন করতে পারায় লাভবান হচ্ছেন। ফলে শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা সচ্ছল জীবনযাপন করতে পাচ্ছে। দেশের সবজির চাহিদা পূরণে অবদান রাখছে এ এলাকার মানুষ।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত