ঢাকা রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ভাতাভোগী যাচাইয়ে ডোর টু ডোর উদ্যোগের সাফল্য

ভাতাভোগী যাচাইয়ে ডোর টু ডোর উদ্যোগের সাফল্য

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। 'ডোর-টু-ডোর' (বাড়ি বাড়ি গিয়ে) লাইভ ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে ১ হাজার ৪৭২ জন মৃত ভাতাভোগীকে সফলভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয় রোধ এবং প্রকৃত ও যোগ্য দুস্থ মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর পথ আরও সুদৃঢ় হলো। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বয়স্ক ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০১৩, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৪ এবং প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রম নীতিমালা-২০২৫-এর বিধান অনুসরণ করে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

গত ৩ জুন থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত ইউনিয়ন কমিটির সার্বিক সহযোগিতায় মাঠপর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভাতাভোগীদের বর্তমান অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়। নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া ও জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করে গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত উপজেলা ভাতা বাস্তবায়ন কমিটির সভায় ওই মৃত ভাতাভোগীদের ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখা এবং চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রথম কিস্তির পে-রোল প্রদান না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কিশোরগঞ্জ সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, সরকার সামাজিক নিরাপত্তা খাতের মাধ্যমে দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর।

এই সহায়তা যেন কোনোভাবেই অপপ্রয়োগ বা অনিয়মের শিকার না হয়, সে লক্ষ্যেই আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আমাদের এই ডোর-টু-ডোর যাচাই কার্যক্রম ভবিষ্যতে ভাতার বিতরণে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। প্রশাসনের এমন নিখুঁত ও সাহসী তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুধী সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাছুম আলী জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এই সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল উদ্যোগ শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বরং দেশব্যাপী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়নে একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত