ঢাকা সোমবার, ০৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২১ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ঠাকুরগাঁওয়ের জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ

মোস্তফা কামাল গাজী
ঠাকুরগাঁওয়ের জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ

প্রাচীনকালে যেসব মসজিদ অনিন্দ্য রূপ নিয়ে গড়ে উঠেছিল, তার মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের জামালপুর ইউনিয়নের জমিদারবাড়ি জামে মসজিদটি উল্লেখযোগ্য। দেড় শতাধিক বছরের পুরনো এই মসজিদ আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঠাকুরগাঁও শহর থেকে পীরগঞ্জ যাওয়ার পথে বিমানবন্দর পেরিয়ে শিবগঞ্জহাট। হাটের প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই মসজিদ। মসজিদের প্রবেশমুখে শোভা পাচ্ছে একটি বড় সুন্দর তোরণ।

মসজিদের নির্মাণশৈলী বলে দিচ্ছে সে সময় কারুকাজ কতোটা নিখুঁত ছিল।

ব্রিটিশ শাসনামলে তাজপুর পরগনার জমিদারবাড়ি থেকে রওশন আলি নামে এক ব্যাক্তি এ অঞ্চলে আসেন। তারই বংশধররা পরবর্তীতে ব্রিটিশের কাছ থেকে জমিদারি পান। ১৮৬২ সালে জমিদারবাড়ির ভিত্তি স্থাপন করা হয়। বাড়িটির নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই ১৮৬৭ সালে মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ফলে মসজিদের ব্যয়বহুল নির্মাণ কাজ শেষ হলেও জমিদার বাড়িটির নির্মাণ অসমাপ্ত থেকে যায়।

মসজিদটির শিল্পকলা দৃষ্টিনন্দিত, মনোমুগ্ধকর ও প্রশংসাযোগ্য। মসজিদের ওপর বড় আকৃতির তিনটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের শীর্ষদেশ কাঁচ পাথরের কাজ করা। এই মসজিদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সরু ও লম্বা মিনারগুলো। মসজিদের ছাদে এমন আটাশটি মিনার আছে। একেকটি মিনার ৩৫ ফুট উঁচু। প্রতিটি মিনারে সুন্দর নকশা করা হয়েছে। গম্বুজ ও মিনারের মিলনে সৃষ্টি হয়েছে অপূর্ব সৌন্দর্য। এত মিনার সচরাচর কোনো মসজিদে দেখা যায় না। মসজিদটির চারটি অংশে ভাগ করা। সেগুলো হলো, মূল কক্ষ, মূল কক্ষের সঙ্গে ছাদসহ বারান্দা, ছাদবিহীন বারান্দা এবং ছাদবিহীন বারান্দাটি অর্ধ প্রাচীরে বেষ্টিত হয়ে পূর্বাংশে মাঝখানে চার থামের ওপর ছাদ বিশিষ্ট মূল দরজা। খোলা বারান্দার প্রাচীরে এবং মূল দরজার ছাদে ছোট ছোট মিনারের অলংকার রয়েছে। মূল কক্ষের বাইরের দিক থেকে পরিমাপ হচ্ছে ২৯*৪৭ ফুট এবং ছাদবিহীন বারান্দার পরিমাপ ২১*৪৭ ফুট। মূল কক্ষের কোণগুলো তিন থাম বিশিষ্ট। এর জানালা দুটি, দরজা তিনটি, কুলুঙ্গি দুটি। মসজিদটির ভিতরে দরজায়, বারান্দায় এবং বাইরের দেয়ালগুলোতে প্রচুর লতাপাতা ও ফুলের সুদৃশ্য নকশা রয়েছে। ভারতের উত্তর প্রদেশের হংসরাজ এবং তার পুত্র রামহিৎ মসজিদটির মূল কারিগর। দ্বারভাঙা এলাকার কারিগরেরাও নির্মাণ কাজে অংশ নেয়।

মসজিদের সংস্কার বিষয়ে মসজিদ নির্মাণকারীর বংশধর খোকন চৌধুরী ও মোসেদ আলী চৌধুরী জানান, তারা পারিবারিকভাবে ও স্থানীয়দের সহায়তায় সংস্কার কাজ করছেন। সংস্কার কাজের খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর। তদুপরি পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষায় হাল ছাড়েননি। জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম চৌধুরী কিছুটা আক্ষেপ করে বলেন, অনেকবার বিভিন্ন মহল এবং প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এ বিষয়ে তিনি সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত