
রোজা রাখার জন্য পবিত্রতা শর্ত নয়। রমজানের রাতে দাম্পত্য মিলন বা স্বপ্নদোষের কারণে কারও ওপর গোসল ফরজ হওয়ার পর সে যদি সুবহে সাদিকের আগে পবিত্র হওয়া বা গোসল করতে না পারে, তাহলেও রোজার নিয়ত করলে রোজা হয়ে যাবে। গোসল করা আবশ্যকীয় নয়। ফরজ গোসল না করার কারণে তার রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। তবে নামাজের জন্য অবশ্যই গোসল করতে হবে। অপবিত্র অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ হবে না।
আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ছাড়া অপবিত্র অবস্থায় রাসুলুল্লাহ (সা.) সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন। এরপরই তিনি গোসল করে নিতেন। ফজর নামাজ পড়তেন। এভাবে রোজা রাখতেন।’ (মুসলিম : ১১০৯)।
যার ওপর গোসল ফরজ, তিনি গোসল না করেও রোজার জন্য সাহরি খেতে পারবেন। উম্মুল মুমিনিন উম্মে সালামা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মাঝে মাঝে অপবিত্র অবস্থায় সুবহে সাদিক অতিক্রম করতেন। এরপর গোসল করে রোজা রাখতেন।’ (বোখারি : ১৯২৬)।
তবে সাহারি খাওয়ার আগে অজু বা হাত-মুখ ধুয়ে নেওয়া ভালো। সাহরি খাওয়ার আগে গোসল করে নেওয়া উত্তম। যদি সম্ভব না হয়, তখন ফজরের নামাজের আগে গোসল করে নামাজ আদায় করতে হবে।রোজা অবস্থায় দিনের বেলায় স্বপ্নদোষ হলেও রোজা ভাঙবে না। কারণ, এটি ইচ্ছাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে স্বাভাবিকভাবেই রোজা সম্পূর্ণ করতে হবে।
কাজা বা কাফফারা কিছুই লাগবে না। তবে গোসল ফরজ হবে। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তিনটি জিনিস রোজা ভঙ্গের কারণ নয়- বমি, শিঙ্গা লাগানো ও স্বপ্নদোষ।’ (বায়হাকি, শুয়াবুল ইমান, ৪/২৬৪) রোজা রাখার জন্য সাহরি খাওয়া সুন্নত। ইসলামের দৃষ্টিতে তা সুন্নত হলেও প্রকৃত তাকওয়া অর্জন এবং আধ্যাত্মিক উন্নয়নের জন্য এর গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, নিশ্চয় সাহরি খাওয়ার মধ্যে বরকত আছে।’ (বোখারি : ১৯২৩)। রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘আমাদের (মুসলমানদের) রোজা আর আহলে কিতাবের (ইহুদি-খ্রিস্টান) রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া আর না-খাওয়া।’ (মুসলিম : ১০৯৬)।