ঢাকা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

কিস্তি- ১

ইবনে বতুতার সফরে তৎকালীন বাংলার বর্ণনা

ড. খোন্দকার আলমগীর
ইবনে বতুতার সফরে তৎকালীন বাংলার বর্ণনা

ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সফর করেন। সেই সময় বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ) তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত ছিল: সোনারগাঁও, সাতগাঁও এবং লখনৌতি। তৎকালীন সময়ে সোনারগাঁও শাসন করতেন ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ (১৩৩৮-১৩৪৯ খ্রি.), সাতগাঁও শাসন করতেন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮ খ্রি.) এবং লখনৌতি শাসন করতেন আলাউদ্দিন আলী শাহ (১৩৩৯-১৩৪২ খ্রি.)। ইবনে বতুতা দিল্লি, কালিকট (কেরালার কোঝিকোড়), মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কা ভ্রমণ শেষে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান। মালদ্বীপে তার দ্বিতীয় সফরের পর তিনি বাংলায় আসেন এবং এটি ছিল ৪৩ দিনের একটি দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা। (আগা মাহদি হুসাইন, দ্য রেহলা অব ইবনে বতুতা, পৃ. ২৩৩)।

তার বাংলা সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল শেখ জালালউদ্দিন মুজাররাদ (চিরকুমার) ইয়েমেনির (রহ.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা। সাধারণত শাহ জালাল (রহ.) নামে পরিচিত এই ব্যক্তিত্ব তখন সিলেটের একজন বিখ্যাত সুফি-সাধক ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ইবনে বতুতা সিলেটে যান এবং সিলেট থেকে নদীপথে সোনারগাঁওয়ে আসেন। তিনি শাহ জালালের সঙ্গে তিন দিন অবস্থান করেছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পৌঁছাতে তার এক মাস সময় লেগেছিল এবং সিলেট থেকে সোনারগাঁওয়ে নদীপথে আসতে লেগেছিল ১৫ দিন। সেই সময় সিলেট সমুদ্রপথের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে খুব ভালোভাবে যুক্ত ছিল। সোনারগাঁও থেকে তিনি সুমাত্রাগামী (জাভা) একটি চীনা জাহাজে (জাঙ্ক) চড়ে বসেন এবং সেটি ছিল ৪০ দিনের একটি যাত্রা।

ইবনে বতুতা বলেন, ‘বাংলা একটি বিশাল দেশ এবং এখানে প্রচুর ধান (চাল) উৎপন্ন হয়। পুরো পৃথিবীতে আমি এমন কোনো দেশ দেখিনি যেখানে বাংলার চেয়ে সস্তায় জিনিসপত্র পাওয়া যায়’। (দ্য রেহলা, পৃ, ২৩৪)। আর্দ্র জলবায়ুর কারণে বিদেশিরা বাংলাকে তেমন পছন্দ করত না। তারা একে বলত ‘দোজখ-ই-পুর নেয়ামত’ বা নেয়ামতে ভরা জাহান্নাম। তবে ইবনে বতুতা বাংলাকে পছন্দ করেছিলেন।

সাতগাঁও নাকি চট্টগ্রাম : ইবনে বতুতা উল্লেখ করেছেন যে তিনি ‘সাদকাওয়ান’ বন্দরের মাধ্যমে বাংলায় প্রবেশ করেছিলেন। কিছু গবেষক সাদকাওয়ানকে পশ্চিমবঙ্গের হুগলির সাতগাঁও হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, আবার অন্যরা একে চট্টগ্রাম বলে মনে করেন। আগা মাহদী হুসাইন এবং সুখময় মুখোপাধ্যায়ের মতে, সাদকাওয়ান আসলে চট্টগ্রামেরই অপর নাম। দ্য হিস্ট্রি অব বেঙ্গল গ্রন্থের একজন লেখকের মতে, ইবনে বতুতা প্রথমে সাতগাঁওয়ে এসেছিলেন এবং তারপর সেখান থেকে সিলেটে গিয়েছিলেন। একই লেখক উল্লেখ করেছেন যে, ফকির নেতা শায়দাকে সাতগাঁওয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু শায়দা আসলে চট্টগ্রামে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি বিদ্রোহ করেন এবং ফখরুদ্দিনের পুত্রকে হত্যা করেন। এটি জোর দিয়ে বলা প্রয়োজন যে, ইবনে বতুতার পক্ষে সাতগাঁও থেকে লখনৌতি হয়ে সিলেটে যাওয়ার চেয়ে চট্টগ্রাম হয়ে সিলেটে যাওয়া অনেক সহজ ছিল। পর্তুগিজরা তখন চট্টগ্রাম বন্দরকে ‘পোর্টো গ্র্যান্ডে’ (বড় বন্দর) ও ‘শতিগান’ এবং সাতগাঁওকে ‘পোর্টো পেকেনো’ (ছোট বন্দর) নামে জানত। স্থানীয় মানুষ এখনো চট্টগ্রামকে ‘চাটগাঁ’ বলে ডাকে। আরবিতে চট্টগ্রামকে বলা হতো ‘শাত আল-গঙ্গা’। ধারণা করা হয়, এই শব্দটির উৎপত্তি শাত আল-গঙ্গা > সাদকাওয়ান > চাটগাঁও থেকে হয়েছে। ইবনে বতুতা চট্টগ্রাম থেকে সিলেটে যান এবং এটি ছিল এক মাসের পথ। (দ্য রেহলা, পৃষ্ঠা: ২৩৭)।

তিনি ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের নাম উল্লেখ করেছেন। এটি জানা যায় যে, ফখরুদ্দিন পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলা শাসন করতেন, সাতগাঁও বা লখনৌতি অঞ্চল নয়। মুহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘...চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলাকে ‘বাঙ্গালাহ’ বলা হতো এবং এই অঞ্চলের মানুষকে ‘বাঙালি’ নাম দেওয়া হয়েছিল’। (মুহম্মদ আব্দুর রহিম, সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল হিস্ট্রি অব বেঙ্গল, ভলিউম ২, পৃষ্ঠা: ৩-৪)।

ইবনে বতুতা তাঁর রেহলা গ্রন্থে কিছু জায়গার নাম উল্লেখ করেছেন: সাদকাওয়ান, কামারু (কামরূপের অসমাপ্ত রূপ), হাবাঙ্ক এবং সুনুরকাওয়ান। তিনি তিনটি নদীর নাম উল্লেখ করেছেন: গঙ্গা (আধুনিক পদ্মা), জুন (যমুনা বা ব্রহ্মপুত্র) এবং আন-নাহর আল আজরাক (নীল নদী), যা সুরমা নদী হিসেবে চিহ্নিত।

ফখরুদ্দিন ও তার ছেলেরা : দিল্লির সুলতান মুহাম্মদ বিন তুগলক তাতার খানকে ‘খান-ই-আজম বাহরাম খান’ (মৃত্যু ১৩৩৭ খ্রি.) উপাধি দিয়ে বাংলার রাজকীয় গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন। বাহরাম খানের মৃত্যুর পর তার সিলাহদার (অস্ত্রাগারের প্রধান রক্ষক বা তত্ত্বাবধায়ক-সাধারণভাবে বর্ম রক্ষক) ফখরা স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ইবনে বতুতা ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ওরফে ফখরার নাম উল্লেখ করেছেন। ‘তিনিই প্রথম মুসলিম রাজা যিনি সোনারগাঁওয়ে একটি স্বাধীন রাজবংশের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। মুদ্রার প্রমাণ দিয়ে তাঁর শাসনকাল নির্ধারিত হয়...’। (আব্দুল করিম, কর্পাস অব দ্য মুসলিম কয়েনস অব বেঙ্গল, পৃষ্ঠা: ৩৭)। তিনি তাঁর মুদ্রায় আব্বাসীয় খলিফা আল-মুস্তাসিমের নাম খোদাই করেননি, বরং তিনি ‘ইয়ামিন-ই-খলিফাত আল্লাহ’ (আল্লাহর খলিফার ডান হাত), ‘ইয়ামিন আল-খলিফাত’ (খলিফার ডান হাত) এবং ‘নাসির আমির আল-মুমিনীন’ (বিশ্বাসীদের নেতার সাহায্যকারী) উপাধিগুলো ব্যবহার করেছিলেন। কোনো কোনো উৎসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, লখনৌতির সুলতান শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের কাছে ফখরুদ্দিন পরাজিত ও নিহত হন। অন্যদিকে ইবনে বতুতা উল্লেখ করেছেন যে, ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের মাত্র একটি পুত্র ছিল এবং শায়দা তাকে হত্যা করেছিলেন। কিন্তু এটি বাস্তব সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে ফখরুদ্দিন ইলিয়াস শাহের কাছে পরাজিত হননি এবং ইখতিয়ারউদ্দিন গাজি শাহ (১৩৪৯-১৩৫২ খ্রি.) নামে তার আরেকজন ছেলে ছিল। যদিও ইতিহাস এই পরের জনের ব্যাপারে নীরব, তবে শুধুমাত্র মুদ্রার মাধ্যমেই তাঁর অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়। মুদ্রায় পিতার নাম উল্লেখ না করলেও, মুদ্রা তত্ত্বের (numismatics) ভিত্তিতে তাকে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের পুত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি নিজেকে ‘সুলতান বিন সুলতান’ (সুলতানের পুত্র সুলতান) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবদুল করিম মন্তব্য করেন, ‘...কিছু গবেষক মনে করেন তিনি সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের দত্তক পুত্র ছিলেন। কিন্তু তার মুদ্রার ধরণ, মুদাঙ্কন ও মুদ্রা প্রস্তুত প্রকৃয়া (mintage) এবং ‘সুলতান বিন সুলতান’ উপাধি বিবেচনা করলে এমন কোনো সন্দেহ পোষণের কারণ থাকে না’। (আব্দুল করিম, কর্পাস অব দ্য মুসলিম কয়েনস অব বেঙ্গল, পৃষ্ঠা: ১৭৯)। ইখতিয়ার উদ্দিন গাজি শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেছিলেন, যখন শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ তাকে পরাজিত ও হত্যা করেন। তার মাধ্যমেই ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের রাজবংশের স্বাধীন শাসনের অবসান ঘটে।

চাল ও অন্যান্য পণ্যের কম দাম : ইবনে বতুতা বাংলায় চালের কম দাম এবং প্রাচুর্যের বর্ণনা দিয়েছেন, তবে বাংলার বাসিন্দাদের কাছে পণ্যের দাম চড়া বলেই মনে হতো। এটি প্রমাণ করে যে পণ্যের মূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল।

আবদুল করিম পর্যবেক্ষণ করেছেন, ‘...কম আয়ের কারণে সাধারণ মানুষ খুব একটা বিপাকে পড়েনি. ... মানুষের চাহিদা খুব বেশি ছিল না এবং তারা তাদের ভাগ্য নিয়ে সুখী ছিল’। (আব্দুল করিম, সোশাল হিস্ট্রি অব দ্য মুসলিমস অব বেঙ্গল, পৃষ্ঠা: ১৯৮)।

ইবনে বতুতা পণ্যের দামের একটি তালিকা দিয়েছেন। তিনি ধান (চাল), চিনি, গোলাপ জল, ঘি বা মাখন, তিলের তেল, মিহি সুতি কাপড় (অর্থাৎ মসলিন), দুগ্ধবতী গাভী, মহিষ, মুরগি, কবুতর, ভেড়া এবং দাস-দাসীদের মূল্যের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও বলেন, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এই অঞ্চলে মহিষই গরুর কাজ করে।

ফকির ও সুফিরা : ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি কর্তৃক বাংলা বিজয়ের সময় থেকে ফকির (ধর্মীয় ভিক্ষুক), সুফি এবং আলিমগণ (ধর্মীয় পণ্ডিত) প্রায় সব শাসকের দ্বারাই সম্মানিত হতেন। আবদুল করিম মন্তব্য করেন, ‘...সুলতান এবং তাঁদের কর্মকর্তারা মুসলিম সংস্কৃতি ও মুসলিম সমাজের বিকাশকে উৎসাহিত করার চূড়ান্ত লক্ষ্যে আলিম ও সুফিদের যথাসাধ্য উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিলেন’। (আব্দুল করিম, সোশ্যাল হিস্ট্রি, পৃষ্ঠা: ৫৭)।

বাংলায় ফকির ও সুফিদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হতো। ফকির ও সুফিরা বাংলাকে ধর্মীয় প্রচারের স্থান বানিয়েছিলেন। কালান্দারি তরিকার ফকিরদের প্রধানের উসকানিতে সুলতান মুগিসুদ্দিন তুগরিল (মুদ্রার প্রমাণ অনুযায়ী তিনি ছিলেন মুইজুদ্দিন তুগরিল) ১২৮১ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকেই দিল্লির সুলতানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন। কালান্দারি ফকিররা তুগরিলের কাছ থেকে ৩ মণ সোনা পেয়েছিলেন এবং এই সোনা দিয়ে তারা তাদের হাতের বালা ও পায়ের সোনার নূপুর তৈরি করে নিয়েছিলেন। তারিখণ্ডই-ফিরোজ শাহি-তে বাংলার কালান্দারদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ‘কালান্দারিয়ারা হলো সুফি দরবেশদের একটি অপ্রচলিত তরিকা যার উৎপত্তি হয়েছিল মধ্যযুগীয় আল-আন্দালুসে (স্পেন), আলমোহাদ খিলাফতের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাহীন জহিরিবাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে। সেখান থেকে তারা দ্রুত উত্তর আফ্রিকা, মাশরেক, বৃহত্তর ইরান, মধ্য এশিয়া, পাকিস্তান এবং ভারতে ছড়িয়ে পড়ে’। (‘কালান্দারিয়া’, উইকিপেডিয়া) উৎসগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শাহ জালাল (রহ.) শেখ সৈয়দ আহমেদ ইয়াসভির (রহ.) শিষ্য ছিলেন, অর্থাৎ তিনি সুফিবাদের ইয়াসভি তরিকার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই তরিকাটি পরবর্তীতে ‘নকশবন্দিয়া’ নামে পরিচিত হয়। আবদুল করিম বলেন যে, শাহ জালাল (রহ.) সুফিবাদের নকশবন্দিয়া তরিকার ছিলেন; কিন্তু অন্য জায়গায় তিনি এই বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। অন্যান্য কিছু উৎসের মতে, শাহ জালাল তার মামা সৈয়দ আহমেদ কবিরের (রহ.) কাছ থেকে আধ্যাত্মিক শিক্ষা লাভ করেছিলেন, যিনি সোহরাওয়ার্দী তরিকার একজন মহান সাধক ছিলেন। মঈন-উদণ্ডদীন আহমেদ খান মনে করেন, যেহেতু শাহ জালালের (রহ.) মাজারে কোনো আধ্যাত্মিক গান বা বাদ্যযন্ত্রের চল নেই, তাই তিনি সোহরাওয়ার্দী তরিকার হতে পারেন না। তিনি নকশবন্দিয়া তরিকার হতে পারেন। (মঈন-উদণ্ডদীন আহমেদ খান, ‘শাহ জালাল’, ইসলামী বিশ্বকোষ) কারণ নকশবন্দিয়া তরিকায় আধ্যাত্মিক গান বা বাদ্যযন্ত্র পরিবেশন করা হয় না। ইবনে বতুতা নিজেকেও একজন তপস্বী এবং ভক্ত হিসেবে বিবেচনা করতেন।

ইবনে বতুতা সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ সম্পর্কে লিখেছেন যে তিনি ‘একজন দক্ষ শাসক যিনি বিদেশিদের, বিশেষ করে ফকির ও সুফিদের ভালোবাসতেন’। (দ্য রেহলা, ২৩৬)। সুলতান ফখরুদ্দিন মুবারক শাহের আদেশ অনুযায়ী সুরমা নদীতে ফকিরদের কাছ থেকে কোনো খেয়া ভাড়া নেওয়া হতো না এবং অভাবীদের রসদ সরবরাহ করা হতো। ফকিররা যখন সোনারগাঁওয়ে প্রবেশ করত, তখন তাদের অর্ধেক দিনার দেওয়া হতো। শায়দা ছিলেন ফকিরদের নেতা এবং ফখরুদ্দিন তাকে চট্টগ্রামের গভর্নর বানিয়েছিলেন।

কিন্তু শায়দা অবিশ্বস্ত প্রমাণিত হন এবং ফখরুদ্দিনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। এমনকি তিনি ফখরুদ্দিনের পুত্রকেও হত্যা করেন। ইবনে বতুতা উল্লেখ করেছেন যে শায়দা সোনারগাঁওয়ে পালিয়ে যান। তবে আবদুল করিম মনে করেন এটি ভুল।

শায়দা হয়তো অন্য কোনো জায়গায় পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহ দমন করা হয় ও শায়দার শিরশ্ছেদ করা হয়। শায়দাকে সমর্থনকারী অনেক ফকিরকেও হত্যা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত