ঢাকা সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইশ্বরদীতে পদ্মার চরে বাদামের বাম্পার ফলন

ইশ্বরদীতে পদ্মার চরে বাদামের বাম্পার ফলন

অনুকূল আবহাওয়া এবং উপযুক্ত মাটি থাকায় ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর জেগে ওঠা চরাঞ্চলে বাদাম চাষের জন্য সহায়ক হওয়ায় এবার বাদামের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা বাজারে বাদামের ভালো দাম পাওয়ায় আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এতে বাদাম চাষিদের মুখে হাসি ফুঠলেও বাগড়া দিচ্ছে বৃষ্টি। মাসব্যাপী চলমান বৃষ্টিতে চর থেকে উঠানো বাদাম শুকাতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতিদিনই হচ্ছে বৃষ্টি। দিনের কোনো সময় রোদ উঠলে চাষিরা প্রতিবেশীর ছাদে বাদাম শুকাচ্ছেন, কেউবা ফাঁকা ঘরের মেঝেতে ফ্যানের বাতাসে বাদাম শুকানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর ঈশ্বরদী অংশে জেগে ওঠা চর জাজিরার চরে ১৯০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৫৬ মেট্রিক টন। এবার উপজেলায় ১৫০ জন বাদাম চাষিকে প্রণোদনার আওতায় বিনামূল্যে বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। বাদাম চাষিরা বলছেন, গত কয়েক বছরের চাইতে এবার বাদামের ফলন বেশি হয়েছে। তারা বলছেন, কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও উৎপাদন বেশি হবে কারণ এবার বাদাম লাগানোর পর থেকেই মাঝে মাঝেই রোদণ্ডবৃষ্টি হওয়ায় বাদামের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে। এখানকার বেলে মাটি বাদাম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বিগত যেকোনো বছরের চেয়ে বাদামের ফলন বেশি হয়েছে।

উপজেলার আরামবাড়িয়া ব্লকের গোপালপুর গ্রামের বাদাম চাষি চাঁদ আলী চাদু ফকির বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরেই তিনি চরে বাদামের আবাদ করেন গত বছর বৃষ্টি না হয় বাদামের গাছ রোদে গাছ পুড়ে গিয়ে ফলন বিপর্যয় ঘটেছিল কিন্তু এবার তিনি চরে চার বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঝে মাঝে রোদ বৃষ্টি থাকায় বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। প্রতি বিঘাতে ৮ থেকে ১০ মণ বাদামের ফলন হচ্ছে। তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে বাদাম লাগাতে একজন শ্রমিক লাগে, ২৫ কেজি বীজ বাদাম ও উঠাতে সাতজন শ্রমিক লাগাসহ খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। এক বিঘা জমি বাদাম বিক্রি হয় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। তাই বাদাম চাষে খরচ কম, লাভ বেশি।

উপজেলার গোপালপুর গ্রামের চাষি মকবুল হোসেন বগরা প্রামানিক বলেন, তিনি এবার চরে দুই বিঘা জমিতে বাদামের আবাদ করেছিলেন। ভালো করে শুকানোর পর প্রতি বিঘায় নয় মণ করে দুই বিঘাতে ১৮ মণ বাদাম পেয়েছেন। বাজারে ভালো দাম থাকায় বাদাম চাষ করে তিনি লাভবান হয়েছেন বলে জানান। উপজেলার একই ব্লকের বাদাম চাষি আবুল কালাম, শামিম আলী প্রামানিক, জার্মানসহ একাধিক বাদাম চাষিরা জানান, চরের জমিতে বাদাম লাগানো ও উঠানো ছাড়া সার, আগাছা দমনের জন্য নিড়ানি ও কীটনাশকসহ অন্য খরচ কিছুই লাগে না। এবার চরের জমিতে বাদামের ফলন ভালো হয়েছে প্রতিবিঘায় ৮ থেকে ১০ মণ বাদাম হচ্ছে। বাজারে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু গোটা মাস জুড়ে বৃষ্টি চলমান থাকায় তারা বাদাম শুকাতে পারছেন না। অনেকেই ঘর খালি করে মেঝেতে বাদাম দিয়ে ফ্যান চালিয়ে শুকানোর চেষ্টা করছেন। উপজেলার আড়মবাড়িয়া বাজারের বাদাম ক্রেতা প্রণয় কুন্ডু জানান, প্রতি মণ ছোট দানার বাদাম ৩২০০ থেকে ৩৪০০ টাকা এবং ও

বড় দানা বাদাম বিক্রি হচ্ছে ৩৮০০ টাকা থেকে ৪০০০ টাকা।

উপজেলার আরামবাড়িয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আলীম জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চরে বাদামের ভালো হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মমিন বলেন, বাদাম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে ১৫০ জন বাদাম চাষিকে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। এতে ঈশ্বরদীর চরাঞ্চলে বাদাম আবাদকারী চাষিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত