ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

অনলাইন জুয়ার থাবায় বিপথে তরুণরা

* সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা * ধারদেনায় জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়ছে তরুণরা * শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কমছে পড়ালেখায় * তরুণদের মধ্যে বাড়ছে রাগ, হতাশা ও আক্রমণাত্মক আচরণ
অনলাইন জুয়ার থাবায় বিপথে তরুণরা

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে তরুণদের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রতি ঝোঁক উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ এবং বিভিন্ন বেটিং অ্যাপের প্রলোভনে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বেকার যুবকরা জুয়ার ফাঁদে বেশি ঝুঁকছে।

দিনে বিষয়টি তেমন বোঝা না গেলেও রাতের বেলায় উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় গোপনে অনলাইন জুয়ার সেশন চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অনেক তরুণ বিভিন্ন বেটিং অ্যাপে টাকা লাগিয়ে জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

প্রথমে ছোট অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করলেও পরে লোভে পড়ে হাজার হাজার টাকা পর্যন্ত হারাচ্ছে অনেকেই। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে মোবাইল ব্যাংঙ্কিং বিকাশ-নগদণ্ডরকেট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে লেনদেন করাও এখন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার অনলাইন জুয়ার কারণেই এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও নেশাগ্রস্তদের সংখ্যা।

এদিকে অনলাইন জুয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বিমুখ হয়ে পড়ছে, পরিবারে বাড়ছে অশান্তি, রাত জেগে মোবাইল ব্যবহার, টাকা লেনদেনের চাপে মানসিক অশান্তি এবং আচরণগত পরিবর্তন এসব কারণে সন্তানদের নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। জুয়ায় নিঃস্ব হওয়া যুবক রমেশ দাস (ছদ্দ নাম) জানান, অনলাইন জুয়ার নেশায় পড়ে ৩৫ হাজার টাকা হারিয়েছি। টাকা উঠানোর আশায় ধার করে ও পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা চুরি করে আবারও খেলেছি, এখন দেনার দায়ে ডুবে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছি। কেউ টাকা দিতে চায় না। পড়াশোনা, পরিবার, বন্ধুবান্ধব সব হারিয়ে আমি এখন দিশাহারা উপজেলার প্রবীণ অভিভাবক রমেশ চন্দ্র পাল জানান, বাচ্চারা দিনরাত মোবাইলেই ডুবে থাকে। কিছু বললে রেগে যায়।

পরে দেখা যায়, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে মানসিক চাপে পড়েছে। যে পরিবারে জুয়ায় আশক্ত ছেলে আছে সেই পরিবারে দুশ্চিন্তা লেগেই আছে। সমাজকর্মী রবীন্দ্র সরকার বলেন, এই আসক্তি শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়-মানসিক চাপ, হতাশা এবং ছোটখাটো অপরাধে জড়ানোর প্রবণতাও বাড়াচ্ছে। তরুণদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এখনই কঠোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তাদের। আইনজীবী আরিফুল ইসলাম বলেন, এ সমস্যা সামাজিক নিরাপত্তা, গণপরিবেশ আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরের প্রভাব নিয়েও বড় প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে।

জনগণ ও প্রশাসনকে মিলে সচেতনতা বৃদ্ধি, আইন প্রয়োগ ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণ করতে হবে এটাই এলাকার মানুষের দাবি। সচেতন নাগরিকদের মতে, বিদ্যালয়ে সচেতনতা কর্মসূচি, মোবাইল ব্যবহারে অভিভাবকদের নজরদারি এবং তরুণদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা গেলে এ সমস্যাকে অনেকটা কমানো সম্ভব। অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাড়াইল থানার ওসি সাব্বির রহমান।

তিনি বলেন, অনলাইন জুয়ার বিষয়ে আমাদের মনিটরিং আরও জোরদার করছি। যারা এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তিনি আরও বলেন, অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। তরুণদের এ বিপথগামিতা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত