
এক সময় ঘুম ভেঙেই অপেক্ষার প্রহর গুণতো সবাই প্রিয়জনের চিঠি পাওয়ার জন্য। ডাক প্রিয়নের ডাক আসবে কখন এই ভেবেই অপেক্ষায় থাকত সবাই। কালের বিবর্তনে টেলিফোন, মোবাইল, ইমেইল, মেসেঞ্জর, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমুর মতো মাধ্যম চালু হওয়ায় এখন আর সেই চিঠির অপেক্ষায় থাকতে হয় না। তবে পোস্ট অফিসগুলোও কাজে পরিবর্তন এনে পেয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মানিঅর্ডার কিংবা আগের মতো চিঠি-পত্র না আসলেও সঞ্চয় পত্র, নিদৃষ্ট ডিপোজিট রাখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত অথবা সাধারণ মানুষের ভিড় পোস্ট অফিসে লেগেই আছে। অথচ সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ ও নির্ভেজাল আস্থার পোস্ট অফিস ঘরগুলো পায়নি আধুনিকতার ছোঁয়া। অনেক জায়গায় সংস্কারের অভাবে পরিত্যক্ত হয় পড়ে রয়েছে। তেমনি একটি পোস্ট অফিসের নাম কাউখালী উপজেলা পোস্ট অফিস।
দীর্ঘ ৭ বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সরকারিভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে সব কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশেই একটি ভবনের নিচতলায় ৫ হাজার ৫ শত টাকা ভাড়া চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে চলছে পোস্ট অফিসের কার্যক্রম। ভাড়া নেওয়া ভবনটি ও যেন একটি অন্ধকার মহল সামান্য ঝড় বৃষ্টি হলেই পানি প্রবেশ করে ডুবে যায়। এমনই এক ভবনে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার খাতাপত্র, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কাগজ, এমনকি ডাক টিকিট, রেভিনিউ স্ট্যাম্প, প্রাইজবন্ডের মতো রাজস্ব আদায়ের সম্পদগুলো অরক্ষিত অবস্থায় ব্যবহার করতে হয়। কয়েক যুগ আগে থানার সামনে এক বিঘার অধিক সম্পত্তির উপর নির্মিত হয়েছিল একতলা বিশিষ্ট পোস্ট অফিস ভবন এবং নিরাপত্তার জন্য সীমানা প্রাচীর। দীর্ঘ কয়েক বছর আগে নির্মিত এই পোস্ট অফিস ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে ভবনের বিভিন্ন অংশ জায়গায় ফাটল ধরে প্লাস্টার খুলে পরে। একপর্যায়ে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হলে ২০১৯ সালে কর্তৃপক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে ভবনের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। দীর্ঘদিন পার হলেও আজ পর্যন্ত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করতে পারেনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। এছাড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী বাউন্ডারি ওয়াল নষ্ট হয়ে অরক্ষিত হয়ে পড়ে। গত দুই বছর আগে নামে মাত্র টেন্ডার দেখিয়ে স্বল্পমূল্যে পোস্ট অফিসের পুরাতন ভবনটি বিক্রি করা হয়। ভবন ক্রেতা ঠিকাদার ভবনের সঙ্গে পোস্ট অফিসের চার পাশে ৬৪ শতাংশ জায়গার উপরে থাকা বাউন্ডারি ওয়ালসহ ভবনটি অপসারণ করে নিয়ে যায়। তখন পোস্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন ভবন অপ্রসারণ করার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হবে। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর পর্যন্ত আজ-কাল ভবন নির্মাণ হবে অথবা কাজ শুরু হবে এমনটাই শুনছে এলাকাবাসী। অথচ ভবন তো দূরের কথা বাস্তবে পোস্ট অফিসে সরকারি জায়গা ও সম্পদ বেহাত হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে। এখানে এখন অনেকেই কৃষি দিয়ে নিজেদের মতো পোস্ট অফিসে জায়গা ব্যবহার করছে। এ যেন দেখার কেউ নাই।একসময় পোস্ট অফিসের দখলে অনেক জায়গা থাকলেও বর্তমানে বিএস পরচায় ৬৪ শতাংশ জমি পোস্ট অফিসের নামে রেকর্ড হয়েছে। বর্তমানে তাও দখল হারাতে বসেছে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া উপজেলা পোস্ট মাস্টাররা ভবন নির্মাণের ব্যাপারে উদাসীন। কারণ নতুন ভবন নির্মিত হলে তাদের নিয়মিত অবস্থান করতে হবে। ফলে বেতন থেকে বাড়ি ভাড়া কর্তন করা হবে। যে কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভবন নিয়ে তারা কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এমন মন্তব্য করেছেন অনেকেই। এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত পোস্ট মাস্টার মো. পারভেজ হাওলাদার জানান জনবল ও ভবন সংকটের কারণে স্বাভাবিক সেবা প্রদান করতে সমস্যা হয়। পোস্ট অফিসের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এছাড়া সেবা গ্রহীতাদের সঠিকভাবে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। কবে নাগাদ ভবন নির্মাণ করা হবে এ বিষয় কিছুই জানেন না তিনি।
পিরোজপুর জেলা পোস্ট অফিসের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ ইমরান হোসেন জানান কাউখালী পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়েছিল। কিন্তু ওয়ার্ক অর্ডার হওয়ার পরেও কি কারণে কাজ শুরু করা হয় নাই এ বিষয় জানতে পারেন নাই। এ ব্যাপারে পোস্ট মাস্টার জেনারেল খুলনা মো. জহুরুল আলম জানান কাউখালী পোস্ট অফিস ভবন নির্মাণের বিষয় প্রকল্পের পিডি বলতে পারবেন। তবে সমস্যার সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি বলে দাবি করেন তিনি।