ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নবান্ন উৎসবে মাছের মেলা

নবান্ন উৎসবে মাছের মেলা

অগ্রহায়ণ মাস। শুরু হয়েছে প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে প্রাণের নবান্ন উৎসব। কৃষকদের ঘরে উঠেছে নতুন ধান। পিঠাণ্ডপায়েসসহ নানা আয়োজনে মেয়ে-জামাই ও স্বজনদের নিয়ে পালিত হচ্ছে কৃষকের কাঙ্ক্ষিত প্রাণের নবান্ন উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে জামাইদের নিয়ে জয়পুরহাটের কালাই পৌরশহরের পাঁচশিরা বাজারে একদিনের জন্য বসে ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলা। ভোর ৪টা থেকেই দিনব্যাপী চলে মাছ কেনা-বেচার উৎসব। এই দিনের অপেক্ষার প্রহর গুণেন এ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের লোকজন। আর মেলায় ভিড় জমান জামাই ছাড়াও সব বয়সি মানুষ।

গতকাল মঙ্গলবার ভোরের কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব আকাশে উকি দিচ্ছে সুর্যের আলো। সেইসঙ্গে বইছে হিমেল বাতাস। শীত উপেক্ষা করে ভোর রাত থেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পসরা নিয়ে অপেক্ষা মেলার মূল আকর্ষণ জামাই। মেলা জুড়ে জামাইসহ ক্রেতা-বিক্রেতা আর কৌতুহলী মানুষের ঢল। প্রায় একশত বছর পূর্ব থেকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পাঁচশিরা বাজারে নবান্ন উৎসবকে ঘিরে চলে আসছে এই মাছের মেলা। মেলায় নদী, দীঘি ও পুকুরের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা দেশীয় প্রজাতির টাটকা মাছে ভরপুর ছিল। এই অনুষ্ঠান পালন করতে আসেন সারা দেশে বসবাসরত তাদের জামায়-মেয়ে, বিয়াই-বিয়ানসহ আত্মীয়-স্বজনরা। মূলত প্রতিযোগিতা করেই মেলা থেকে জামাইরা মাছ ক্রয় করে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। তাইতো মেলার প্রতিটি দোকানে সাজানো ছিল দেশীয় জাতের বোয়াল, রুই, মৃগেল, কাতলা, চিতল, সিলভার কার্প, পাঙ্গাস, ব্রিগেট, বাঘার, আইরসহ নানা ধরনের মাছ। মেলায় সর্বোচ্চ ২৫ কেজি ওজনের কাতলা মাছ বিক্রি হয়েছে ২৬ হাজার ৬০০ টাকায়। মাছ ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫দিন আগে থেকে মেলার জন্য প্রস্তুতি নেন তারা।

পঞ্জিকা অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথমে এ মেলা বসে। নতুন ধান কাটার উৎসবে কৃষকদের প্রস্ততকৃত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত এই নবান্ন উৎসব। প্রতি বছরের অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান কাটার পর নবান্ন উৎসবের আয়োজন। এ মেলার কোনো আয়োজক নেই। প্রতিবছর এই দিনে মাছের মেলা অটোভাবেই বসে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা মেলার আগে এক সপ্তাহ ধরে এলাকায় মাইকে প্রচার করে।

এই দিনে মেলায় প্রচুর মাছ আমদানি যেমন হয় তেমনি বিক্রিও হয়। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত তাদের জামায় ও আত্মীয়-স্বজনকে আমন্ত্রণ করেন এই দিনে। এই অনুষ্ঠান পালন করতে যোগ দিতে আসেন জামায়-মেয়ে, বিয়াই-বিয়ান ও আত্মীয়-স্বজনরা।

উপজেলা মৎস কর্মকর্তা তৌহিদা মোহতামিম বলেন, প্রতি বছর এই দিনে পাঁচশিরা বাজারে মাছের মেলা বসে। মেলায় ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ওঠেছে। বড় বড় মাছ দেখে এ এলাকার চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা ছিল বেশি। মাছও বিক্রি হয়েছে। দামও ছিল স্বাভাবিক। এবার মাছ নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়নি। লাভও হয়েছে মোটামুটি। আর এই দিনের অপেক্ষায় মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনি ও আত্মীয়-স্বজনরা চেয়ে থাকে। তাই আনন্দ উপভোগ করতে এই উৎসবের আয়োজন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত