
কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিএনপির আনন্দ মিছিল থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কামালপুর গ্রামে তার পৈত্রিক বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জানালা, চেয়ার, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এ সময় বাড়িটিতে আবদুল হামিদের কোনো স্বজন ছিলেন না।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করায় উপজেলা বিএনপির ৭০-৮০ জন নেতা-কর্মী একটি আনন্দ মিছিল বের করে। মিছিলটি মিঠামইন বাজার থেকে কামালপুর গ্রামের দিকে অগ্রসর হলে ২০-২৫ জনের একটি দল সাবেক রাষ্ট্রপতির বাড়িতে গিয়ে হঠাৎ হামলা চালায়। মিঠামইন থানার ওসি আলমগীর কবির বলেন, বিএনপির একটি আনন্দ মিছিল থেকে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে যায়। হামলায় বসতঘরের আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং কয়েকটি ছবি ভাঙচুর করা হয়। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন আছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বাড়িটিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কোনো স্বজন বসবাস করেন না। আগে এ বাড়িতে তার বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহমেদ তৌফিকসহ অন্যান্য সন্তানেরাও বসবাস করতেন। তিনিও ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ গেলে জেলা শহরের খরমপট্টি এলাকার বাড়ির পাশাপাশি গ্রামের এই পৈত্রিক বাড়িতে থাকতেন।