
মাদারীপুরের রাজৈরে মশার কয়েল থেকে আগুন লেগে তিনটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল লাউসা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুটি কাপড় ও একটি মুদি দোকানের সম্পূর্ণ মালামাল পুড়ে যায়। এতে ১৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
গতকাল মঙ্গলবার সরজমিনে স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত সোমবার রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যায় কাপড় ব্যবসায়ী সুভাষ হালদার, সমর হালদার ও মুদি দোকানি মনি মোহন মোড়ল। পরে রাত ১২টার দিকে দোকানে জ্বালিয়ে রাখা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং দ্রুত আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পার্শ্ববর্তী বাঘিয়ার বিলে মাছ ধরতে থাকা জেলেরা এসে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। খবর পেয়ে বাজারে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্ষতিগ্রস্ত দোকানিরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ব্যবসায়ী সুভাষ হালদার জানান, আমার একমাত্র আয়ের উৎস এই কাপড়ের দোকান। এই দোকানের আয় দিয়ে আমাদের পুরো সংসার চলে। তা পুরে ছাই হয়ে গেল। দোকানের ক্যাশে থাকা নগদ ৮৫ হাজার টাকা, একটি স¦র্ণের চেইন, একটি আংটি, এক জোড়া কানের দুল, ৩ লাখ টাকার সিট কাপড়, থ্রি-পিচ, শাড়ি কাপড়সহ মোট ৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা অসহায়। আমাদের বেঁচে থাকার উপায় নেই। সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাই।
অন্য কাপড় ব্যবসায়ী সমর হালদারের মা রিতা হালদার জানান, আমার দোকানে ছিল ৩টি সেলাই মেশিন, শাড়ি, সিট কাপড়, থ্রি-পিচ। প্রায় ৩-৪ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আমরা এখন কি ভাবে বাঁচব। আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমরা সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাই।
মুদি দোকানদার মনি মোহনের ছেলে মঙ্গল মোড়ল? জানান, মুদি দোকান থেকে আয়ের টাকায় আমাদের সংসার খরচ চলে। ৩-৪ লাখ টাকার চাল, ডাল, তেলসহ বিভিন্ন মুদি পণ্য ছিল।
সব পুরে ছাই হয়ে গেছে। কিছুই বাকি নাই। আমরা সরকারের কাছে আর্থিক সাহায্য চাই। যাতে করে পুনরায় দোকান দিয়ে বাঁচতে পারি। প্রতিবেশী লিটু হালদার জানান, আগুন লাগে রাত ১২টার সময়, আগুন দেখে পার্শ্ববর্তী বাঘিয়া বিলের মাছ ধরার জেলারা ও আমরা ছুটে যাই আগুন নিভানোর জন্য। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ২টা? লেগে যায়। ৩টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ৩টি দোকান মালিকের প্রায় ১৪ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
আমি ক্ষতিগ্রস্থ ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারের কাছে, সাহায্য কামনা করছি। রাজৈর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রোকন উজ্জামান বলেন, তিনটি দোকান আগুনে পুড়ে যাওয়ার তথ্য আমরা পেয়েছি। এরইমধ্যে জেলায় পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা হবে।