
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার অসাধারই সুন্দর গ্রাম বাহেরচর। গ্রামের বেশির ভাগ দরিদ্র পরিবারের নারীরা রাজহাঁস পালন করে সংসারের অভাব-অনটন দূর করার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠছে। রাজহাঁস পালন করে সন্তানদের পড়ালেখার খরচ জোগানোসহ সংসারের যাবতীয় ব্যয় মেটাচ্ছে জীবনসংগ্রামী এসব নারী। কথা বলে জানা গেছে, দু’দশক আগে এ অঞ্চলে রাজহাঁস পালন শুরু হয়। যত দিন যাচ্ছে ততো রাজহাঁসের সংখ্যা বাড়ছে। গ্রামের পাশ দিয়ে মেঘনা ও এর শাখা নদী তিতাস অববাহিকায় সুবিধার কারণে হাঁস পালন সহজ করে তুলেছে সবাইকে। সকালে বাড়ি থেকে হেলতে দুলতে রাজহাঁস আহারের সন্ধানে বের হয়। নদী, বিল বাঁওড় ও ডাঙ্গা থেকে এরা খাবার খায়। সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ি ফিরলে হাঁসকে ধানের কুঁড়া, ভাত বা সবজির ফেলে দেওয়া অংশ খেতে দেওয়া হয়।
গ্রামের লাকি বেগম বলেন, তার ৫টি রাজহাঁস আছে। একটি হাঁস বছরে দু’বার ডিম পাড়ে। একেক বাড়ে ১০-১১টি করে ডিম দেয়। ডিম ফুটিয়ে এক দিন বয়সের এক জোড়া বাচ্চা ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি হাঁস থেকে বছরে ৩ হাজার টাকা আয় হয়ে থাকে। আর একটি বড় হাঁস বিক্রি হয় ১৫০০ থেকে ২৫০০ টাকায়। এছাড়া বাহেরচরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি পরিবারেই পাঁচণ্ডছয়টি করে রাজহাঁস রয়েছে। কারও কারও রয়েছে ১০-১৫টি পর্যন্ত। রাধানগর গ্রামের আয়েশা খাতুন জানান, একেকটি রাজহাঁস তিন থেকে আটটি ডিম দেয়। চার মাস বয়সের একটি রাজহাঁস থেকে চার-পাঁচ কেজি মাংস পাওয়া যায়।
বাহেরচর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী শিবপুর, দুলারামপুর, চর মরিচাকান্দি, শান্তিপুর, জয়কালিপুর, ফরদাবাদে রাজহাঁস পালনে ঝুঁকছে নারীরা। যদিও, এখনও কোনো খামার গড়ে উঠেনি রাজহাঁসের। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহতাছিম বিল্লাহ জানান, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাহেরচর, রাধানগর, কালিকাপুর, উজানচর, মরিচাকান্দি, শিবপুর, বিষনারামপুর, শান্তিপুর, ফরদাবাদ, ছলিমাবাদসহ বিভিন্ন গ্রামে ব্যাপকভাবে রাজহাঁস পালন করা হয়।
হাঁস পালন লাভজনক হওয়ায় অনেকে হাঁসের খামার গড়তে উদ্যোগী হচ্ছে। কেউ কেউ মাছ চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে রাজহাঁস পালন করছে বলেও জানান তিনি। প্রায় ৫ হাজার খানেক রাজহাঁস পালন করা হচ্ছে। রাজহাঁসের রোগ-ব্যাধি কম হয়। ভয় শুধু ডাক প্লেগ নিয়ে। এ রোগের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন মাঝে মাঝে দিলে আর ভয় থাকে না।