ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

চান্দিনায় প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট

* করতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাথী রাণী দেবনাথ বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একাধারে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজ দুটিই করতে হয়, এতে ক্লাসে পুরো মনোযোগ দেওয়া যায় না, শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
চান্দিনায় প্রাথমিকে শিক্ষক সংকট

শিক্ষক সংকটে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার মুখে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুল সংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, যা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে চান্দিনার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে ৪৪টি। একইসঙ্গে সহকারী শিক্ষকের পদও শূন্য রয়েছে ৪২টি। সব মিলিয়ে মোট ৮৬টি শিক্ষকের পদ শূন্য। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত যেখানে মজবুত করার কথা, সেখানে এমন ভয়াবহ চিত্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসেও নেই সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, যার ফলে বিদ্যালয় তদারকি, পাঠ্যসূচি বাস্তবায়ন এবং ফল বিশ্লেষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

করতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাথী রাণী দেবনাথ বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় একাধারে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কাজ দুটিই করতে হয়, এতে ক্লাসে পুরো মনোযোগ দেওয়া যায় না, শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় ৪৪টি বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের। পাশাপাশি, সহকারী শিক্ষকের ৪২টি পদ শূন্য থাকায় কর্মরত শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত পাঠদানের চাপ বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণিতে বা একসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অভিভাবকেরা আশঙ্কা করছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে পরীক্ষা ও মূল্যায়ন কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে চান্দিনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মানসম্মত শিক্ষায় পিছিয়ে পড়বে। স্থানীয় অভিভাবকেরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার পাল বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি অধিদপ্তর থেকে হয়। সার্কুলেশন হয়েছে, লিখিত ও ভাইভা শেষে শূন্যপদে নিয়োগ হবে। প্রধান শিক্ষকের প্রমোশন পিএসসি থেকে অনুমোদন লাগে। আর সারা দেশের শিক্ষা অফিসগুলোতে শূন্যপদ রয়েছে। আমরা চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমাধান হবে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব হবে। তবে, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল চান্দিনার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা থেকে মুক্তি মিলতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত