ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চালুর দাবি

নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চালুর দাবি

নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শেষ হয়েছে। ট্রাক, অটোরিকশাসহ অন্য যানবাহন চলাচল করলেও যাত্রীবাহী বাস এখনও এ রুটে চলছে না। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ খরচ বেশি হচ্ছে। এ রুটে বাস সার্ভিস চালু হলে মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আর্থসামাজিক দিক দিয়ে আরও এগিয়ে যাবে এ দুই জেলা। দ্রুত বাস সার্ভিস চালুর দাবি স্থানীয়দের। নওগাঁর পাশ্ববর্তী জেলা নাটোর এর দুরুত্ব প্রায় ৬০ কিলোমিটার। অথচ দুই বছর আগেও সড়ক পথে সেখানে যোগাযোগের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। নওগাঁ-আত্রাই-নাটোর মহাসড়কের জন্য ২০০৫ সালে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়। এরপর ২০০৭ সালের জুন মাসে নওগাঁ-সান্তাহার রোডের ঢাকার মোড় থেকে নাটোরের নলডাঙ্গা পর্যন্ত সাড়ে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তার মাটি ভরাটের কাজ শেষ হয়। এরপর কয়েকধাপে ২০২৩ সালে আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ শেষ হলে চলাচলের উপযোগী হয়। এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি ছিল জেলার রানীনগর ও আত্রাই উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বর্তমানে রেললাইন ও আঞ্চলিক মহাসড়কটি পাশাপাশি বয়ে গেছে। নওগাঁর সঙ্গে নাটোরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল ট্রেন। এছাড়া সড়ক পথে প্রায় ৫১ কিলোমিটার ঘুরে রাজশাহী অথবা বগুড়া হয়ে নাটোর যেতে হতো। এতে সময়, শ্রম ও অর্থ খরচ বেশি হতো। তবে আঞ্চলিক এ মহাসড়কটি হওয়ার পরও কোনো বাস চলাচল করছে না। তাই অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার এবং ট্রেন এখন ভরসা। জরুরী প্রয়োজনে অটোরিকশা ও অন্য যানবাহন রিজার্ভ করে যেতে হয়। তবে বাস চালু হলে জনপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হবে। সড়কটি চালু হওয়ার পর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন চালিয়ে স্থানীয় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাস মালিক ও শ্রমিকরা জানান- এক সময় নওগাঁ-রানীনগর ও আত্রাই উপজেলায় ৫২টি বাস চলাচল করতো। তবে ২০১২ সালে অজানা কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে বেকার হয়ে পড়েন। তবে নওগাঁ-নাটোর রুটে বাস চালু হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৫০০ মালিক, চালক ও শ্রমিকের কর্মসংস্থান হবে। বাস বন্ধ হওয়ার পর ওই রুটটিতে এখন অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীরা চলাচল করে।

আত্রাইয়ের বাসীন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন- নওগাঁ শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দুরে আত্রাই উপজেলা। এখন যোগাযোগের মাধ্যমে অটোরিকশা (সিএনজি)। যেখানে যাত্রীদের ভাড়া গুনতে হয় প্রায় ৮০ টাকা। এছাড়া ঝুঁকি নিয়ে যেতে হয় যাত্রীদের। বাস চলাচল করলে ভাড়া কম লাগবে এবং সময়ও কম লাগার পাশাপাশি নিরাপদে গন্তব্যে যাওয়া সম্ভব। আত্রাই উপজেলার ভরমাধাইমুড়ি গ্রামের বাসীন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন- কয়েক বছর আগেও আমাদের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ছিল ট্রেন। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে আত্রাই আহসানগঞ্জ রেল স্টেশনে গিয়ে ট্রেনে নাটোরসহ অন্য জেলায় যেতো হতো। এছাড়া ভ্যান ও ভটভট করে গন্তব্যে যেতে হতে। এখন গ্রামের পাশ দিয়ে আঞ্চলিক সড়কটি হওয়ায় আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই সুবিধা হয়েছে। সময়মতো হাটবাজারে পণ্য নেওয়া যায় এবং গন্তব্যে যাওয়া যায়। আর ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে হয়না। গোনা গ্রামের বাসীন্দা হেলাল বলেন- সড়কটি হওয়ায় আমাদের জীবনমানের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। ছোট যানবাহন চলাচল করছে। তবে বাস চালু হলে সহজেই নাটোর জেলা এবং রাজশাহী যাওয়া সম্ভব। বর্তমানে নাটোর যেতে হলে ট্রেনে এবং মাইক্রো ভাড়া করে যেতে হবে। আর ট্রেনতো সময়মতো পাওয়া যায় না। এ রুটে বাস চালু হলে সবার জন্য সুবিধা হবে।

নওগাঁ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ সভাপতি সৈয়দ রেজাউল মোস্তফা কালিমী বাবু বলেন- নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কে বাস চালু করতে চাই। তবে বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য শহরের পার-নওগাঁয় বাস রাখার জায়গা প্রয়োজন। কারণ ছোট শহর এমনিতেই অনেক যানজট লেগেই থাকে। নওগাঁ-নাটোর সড়কে বাস চালু করার জন্য আগে বাস রাখার মতো একটি জায়গা প্রয়োজন। যেখানে বাস থাকবে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট চালক ও শ্রমিক থাকবে। এছাড়া যাত্রী উঠানামা করবে। বাস চালু হলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। নওগাঁ পৌরসভার প্রশাসক টিএমএ মমিন বলেন- পৌরসভার অভ্যন্তরে জায়গা স্বল্পতায় নতুন করে বাসস্ট্যান্ড নির্মাণের কোনো জায়গা নেই। তবে শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডটি আধুনিক করার জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যা শিগগিরই বাস্তবায়ন হবে। তবে সেখানে যে নিচু জায়গা রয়েছে তা ভরাট করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত