ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

পাঁচ কোটি টাকার পাইপ ১৯ লাখে বিক্রির অভিযোগ

তদন্ত কমিটি গঠন
পাঁচ কোটি টাকার পাইপ ১৯ লাখে বিক্রির অভিযোগ

নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে (ডিপিএইচই) সরকারি মালামাল বিক্রিতে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের পানির পাইপ মাত্র ১৯ লাখ টাকায় গোপন টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার তদন্ত করেন, চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী তদন্ত কমিটির প্রধান মোহাম্মদ আলী আজগর।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মজুত থাকা বিপুল পরিমাণ জিআই ও পিভিসি পাইপ ‘অব্যবহৃত’ দেখিয়ে গোপনে নিলামে তোলা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্যে নোটিশ, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও মূল্য নির্ধারণ কমিটির সুপারিশ ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এমন অভিযোগ তুলেছে জেলার ঠিকাদাররা।

ঠিকাদারেরা অভিযোগে আরও বলা হয়, বাজারমূল্য ও প্রকল্পমূল্য অনুযায়ী এসব পাইপের আনুমানিক দাম প্রায় ৫ কোটি টাকা হলেও মাত্র ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। এতে করে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কেলের প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আজগর বলেন, বিষয়টি এখন তদন্তাধীন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ৭ কর্মদিবসে ভিতরে তদন্ত শেষ করতে বলেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে ভালো হতো। সবকিছু ও কাগজপত্র যাচাই-বাচাই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্যানিডা প্রকল্পের অর্থায়নে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের পাইপ ও নির্মাণসামগ্রী নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের একটি গুদামে সংরক্ষিত ছিল।

এসব মালামাল কথিত দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নামমাত্র একটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিলামে তোলা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও অফিসের লোকজনের জোগসাজশে আওয়ামী লীগ নেতা শাহনাজসহ কয়েকজনের নামে মাত্র ১৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকায় নিলাম দিয়ে কার্যাদেশের মাধ্যমে মালামালগুলো সুবর্ণচরের চরবাটা ও চর আমানউল্লা এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে গত সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেলের নেতৃত্বে বিএনপির সমর্থিত ঠিকাদাররা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলামসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী অফিস রেখে সটকে যান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত