
চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে নির্বিচারে চলছে ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনা নিধন। বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদে অসাধু জেলেরা দিন-রাত নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে এসব পোনা ধরে বিক্রি করছে। নিধন করা পোনা প্রতিদিন শহর ও শহরতলীর অলিগলিতে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে। জানা যায়, চাঁদপুর নৌ-সীমানার পদ্মা-মেঘনা নদীতে অধিকাংশ মাছই শীত মৌসুমের আগে ডিম ছাড়ে। শীত মৌসুমে ইলিশ, চিংড়ি, পাঙ্গাস, আইড়, রিটা, পাবদা, পোয়া, চেউয়া, টেংরাসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছের পোনায় নদীগুলো ভরপুর হয়ে যায়। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে এসব মাছের পোনা নিধন করে যাচ্ছে।
জোয়ার-ভাটার সময় মধ্যরাতে পাতাজাল, বেহুন্দিজাল, মশারি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে জেলেরা নদীতে নামতে দেখা যায়। এসব জালে শুধু মাছের পোনাই নয়, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন উপকারী জলজ প্রাণীও ধরা পড়ছে। নিধন করা পোনা পুরানবাজারসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর পাড়েই দাদনদারদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে জেলেরা। ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত শত শত নৌকায় করে হাজারও জেলে পোনা নিধনে যুক্ত থাকছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহরের পুরানবাজার রনগোয়াল এলাকায় ‘বাইলার গুড়া’ বা ‘সাগরের পোনা’ নামে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। রনগোয়ালের নুরু বকাউলের বাড়ির পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৩৫টি নৌকায় করে ৫০-৬০ মণ পোনা কেনা-বেচা হয়। লিটন গাজী, কাঞ্চন, মানিক, হান্নান, কাসিম ছৈয়াল, বাদল ও আরশাদের নেতৃত্বে এই পোনা নিধন চক্র পরিচালিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রকাশ্যেই বলে নৌ-পুলিশ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এভাবে নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুরানবাজার রনগোয়াল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে বলেন- শীত মৌসুমে নদীতে প্রচুর পরিমাণে মাছের পোনা পাওয়া যায়। ‘গুড়া মাছ’ ধরতে নদীতে নামার আগে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নৌ-পুলিশকে হাত করতে হয়। এরপর জোয়ার-ভাটার সময় বিভিন্ন নিষিদ্ধ জাল নিয়ে নদীতে নামা হয়।
জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সবেবরাত সরকার বলেন- নির্বিচারে পোনা নিধনের ফলে চাঁদপুরে প্রতিনিয়ত মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, নিয়মিত কম্বিং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা অবগত আছি। গত কয়েকদিন আগেও কয়েকটি মশারি জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।