ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

হাটহাজারীতে সরিষাার আবাদ বেড়েছে

হাটহাজারীতে সরিষাার আবাদ বেড়েছে

চট্টগ্রামে হাটহাজারীতে সরিষা চাষ গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে এবং কৃষকদের আয় বাড়াতে সহায়ক হয়েছে, যেখানে স্থানীয় কৃষি অফিস বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে এই চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করছে এবং বিগত বছরগুলোর তুলনায় আবাদ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উপজেলা সরিষা চাষের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, যা ৯২০ হেক্টরের জমিতে পৌঁছেছে, যা একটি রেকর্ড। উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে সরিষা বীজ ও সার বিতরণ করছে। ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করা এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ। চাষিরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন, কারণ অনুকূল পরিবেশ ও সরকারি সহায়তা তাদের উৎসাহিত করেছে। সাধারণত ১৫ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সরিষা বপন করা হয়। সরিষা গাছের শুটি ৭০-৭৫ ভাগ পেকে গেলে ফসল কাটার উপযুক্ত সময়।

কৃষি অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, এই বছর মোট সরিষা আবাদকারীর সংখ্যা ৫০০৪ জন তার মধ্যে ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার এবং সরকারি সহায়তপ্রাপ্ত কৃষকের সংখ্যা ১২০৪ জন। গত বছর সরিষার ভালো ফলন হওয়ায় এবারও কম খরচে বেশি ফলনের আশায় চাষিরা আমন ধান গোলায় তুলে এমনকি পতিত জমিতে হেমন্তের শেষের দিকে সরিষার বীজ বুনন করেছিলেন। জমি পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কিছু দিন পর এই শস্য ঘরে তুলতে পারবেন। তাদের এই আশার সরিষার গাছ এর সবুজের ডগায় ডগায় হলুদ রঙের ফুল ফুটেছে। গাছে গাছে মনমাতানো সরিষা ফুল মৃদু হাওয়ায় দুলছে। গাঢ় হলুদ বর্ণের এই ফুলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছি আর ছোট পাখির গুঞ্জনে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সরিষা চাষি মো. মফিজ ও শফিসহ বেশ কয়েকজন চাষি বলেন, গত বছর সরিষার ভালো ফলন হয়েছে। তাই এবারও সরিষার চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে সরকারি প্রণোদনায় ভালো বীজ ও সার পেয়েছি। কৃষি কর্মকর্তারা আমাদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে আমাদের হাতে কলমে দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। যেভাবে জমিতে সরিষে ফল ফুটেছে আমরা আশাবাদী বাম্পার ফলন হবে। কেননা গত বছরের তুলনায় এবার আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ মেজবাহ উদ্দীন বলেন, সরিষা একটি লাভজনক ফসল। এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার হেক্টর জমি। কিন্তু কোথাও কোথাও সেচের অভাব থাকায় তা পূরণ হয়েনি। তবে ৯২০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে গত বছর এই উপজেলায় ৯০০ হেক্টরে জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে। বিগত বছরগুলোতে এত সরিষার আবাদ হয়নি এই উপজেলায়। কিছু দিন এর মধ্যে কৃষকেরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছি। এ সময় তিনি আরও বলেন, যথাসময়ে সরকারিভাবে কৃষকদের সার ও বীজ প্রণোদনা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক মাঠে ময়দানে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঠ কমকর্তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত