
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রামের যৌথ উদ্যোগে চবি ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) সহায়তায় ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের করণীয়’ শীর্ষক মাদকবিরোধী এক সেমিনার গতকাল বৃহস্পতিবার চবি ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- চবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন ও চবি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আফজাল হোসেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, মাদক কেবল একজন শিক্ষার্থীকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও রাষ্ট্রকে পঙ্গু করে দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত রাখতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক সেতুবন্ধন তৈরি করা জরুরি। আমরা মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। এজন্য ক্যাম্পেইন থেকে শুরু করে অনেক কার্যক্রম আমাদের হচ্ছে। আমরা শিক্ষার্থীদের সচেতনতার লক্ষে ডোপ টেস্ট করিয়েছি। উপাচার্য এমন আয়োজনের জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি মাননীয় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিন বলেন, মাদকের ভয়াবহতা অনেক বেশি। অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে মাদকের কবলে পড়ে শিক্ষা জীবন শেষ করে ফেলেছেন। মাদক অনেকের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। মাদক নির্মূল করতে হলে আমাদের সবার দায়-দায়িত্ব আছে। এক্ষেত্রে সবার সচেতনতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
তিনি এমন আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (প্রধান কার্যালয়, ঢাকা) এর পরিচালক (উপ-সচিব) জনাব মাজহারুল ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন- মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক রামেশ্বর দাস। তিনি মাদকের ভয়াবহতা এবং তরুণ সমাজকে রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। প্রধান বক্তা হিসেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় অতিরিক্ত পরিচালক (চট্টগ্রাম) মো. জাহিদ হোসেন মোল্লা মাদকের বিস্তার রোধে মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও আইনগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন। অন্যান্য বক্তারা মাদকের নীল দংশন থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকাগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে একমত পোষণ করেন অতিথিরা।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে একটি সচেতনতামূলক প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয় যেখানে শিক্ষার্থীরা মাদকের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।