
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর আংশিক) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, মামলা, গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও ধারাবাহিক ভয়-ভীতির কারণ দেখিয়ে তিনি এ কঠিন সিদ্ধান্তের কথা জানান।
গতকাল রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট উদ্দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তাকে ৩টি মামলায় জড়ানো হয় এবং নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। অথচ মামলাগুলোর ঘটনার সঙ্গে তার কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি অভিযোগকৃত সময় তিনি সংসদ সদস্য পদেও ছিলেন না বলে উল্লেখ করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আরও জানান, আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেননি। তবে জাতীয় পাটির নেতাকর্মীরা তার পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন এবং প্রার্থীতা বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। কিন্তু প্রচারণা শুরুর পর থেকেই তাকে এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভয়-ভীতি, হুমকি এবং গ্রেপ্তারের আশঙ্কা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে অন্যান্য প্রার্থীদের মতো স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রচারণা চালানো তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দলের সর্বস্তরের সিদ্ধান্তক্রমে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি সাংবাদিক, আবেগপ্রবণ ভোটার, শুভানুধ্যায়ী, আত্মীয়-স্বজন এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। নিজের নির্বাচনি এলাকার জনগণের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করেন এবং সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনি মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।