
ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি এবং ফুলতলা উপজেলার ৪টি ইউনয়ন নিয়ে গঠতি। এখানে ভোট সংখ্যা প্রায় ৪ লাখের উপরে। আলোচিত এই আসনটিতে ভোটের অবতীর্ণ হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের দুই জোটের দুই হেভিওয়েট প্রার্থী। একজন হলেন, খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি বিসিবির সাবেক সভাপতি আলী আসগার লবি। অন্যজন হলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। নব্বইয়ের দশকে শেষ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তার এক সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে পরস্পর ঘনিষ্ট ছিলেন। কিন্তু ৫ আগস্টের আওয়ামী বিহীন রাজনীতিতে তারা এখন পরস্পর মুখোমুখি।
খুলনা-৫ আসনটি কৃষি প্রধান অঞ্চল। বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলা। তবে ফুলতলা কৃষির সঙ্গে রয়েছে কিছু মিল কলকারখানা। কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি পাটকল, বাংলাদেশ শুধু শিল্প, এসেনশিয়াল ড্রাগ্স, জাহানাবাদ সেনানিবাস। অন্য দিকে ডুমুরিয়ার বুক চিরে রয়েছে প্রায় ৩০ কিলোমিটারজুড়ে ভদ্রা, আপার ভদ্রা, ঘ্যাংরাইল, শৈলমারী, হামকুড়া, হরি নদীসহ ছোট-বড় অসংখ্য নদী।
যেগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় বিল ডাকাতিয়াসহ ডুমুরিয়া, ফুলতলা, যশরোরের কেশবপুর মনিরামপুর, অভয়নগর ও সাতক্ষীরার তালা ও খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কিছু অংশ এখন প্রতি বছর জলাবদ্ধতা দেখা দেয় বর্ষা মৌসুমে। কোথাও কোথাও স্থায়ী জলাবদ্ধতা এই অঞ্চলের মানুষের গলার কাঁটা। এছাড়া ডুমুরিয়ার চুকনগরে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সবচেয়ে বৃহৎ গণহত্যার বধ্যভূমি। যেখানে ৭ থেকে ৮ হাজার নিরস্ত্র নারী-পুরুষকে পাকহানাদার বাহিনী হত্যা করে ১৯৭১ সালের ২০ মে। যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা। ঐতিহ্যগতভাবে ডুমুরিয়া ফুলতলা হলো কৃষক আন্দোলনের সুতিকাগার। কৃষক নেতা বিষ্ণ চ্যাটার্জির চারণভূমি ছিল ডুমুরিয়া। এছাড়া ফুলতলার দক্ষিণ ডিহিতে কবিগুরু রাবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের শশুর বাড়ি ও পায়গ্রাম কসবায় রয়েছে পীর খানজাহান আলীর মসজিদ। নানা কারণে এই এলাকা সমৃদ্ধ। বিগত দিনে অধিকাংশ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই আসন থেকে বিজয়ী হয়েছে। তবে ছন্দপতন ঘটে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে হারিয়ে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হন। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার তখন ছিলেন খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির। পরে তিনি সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি থেকে এখন সেক্রেটারি জেনারেল। অর্থাৎ জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ব্যক্তি। যে কারণে তিনি নিঃসন্দেহে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী।
অন্য দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি আলী আসগার লবি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি একমাত্র প্রার্থী যিনি নিজে আগের খুলনা-২ আসন ছেড়ে খুলনা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এটি তার পূর্ব পুরুষের বসতভিটা। দাদা-দাদির কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। দুইপ্রার্থী এলাকার উন্নয়নসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এলাকার উন্নয়ন এবং সমস্যা সঙ্কুল প্রধান অন্তরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করছেন। আলোচিত এই আসনটিতে লক্ষাধিক সনাতনী ভোট রয়েছে।