
রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের সব প্রস্তুতি চূড়ান্ত, বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করে ভোটারদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রায়হান কবির।
গতকাল মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের গণমাধ্যম কর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের বড় ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে না। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি মনিটরিংয়ের জন্য জেলায় ১৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের সঙ্গে পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এর ফলে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। আমরা অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আচরণবিধি বাস্তবায়ন করেছি। যারা আচরণবিধি ভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
নির্বাচনের দিন কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন থাকবে। মোবাইল ফোর্স, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং রিজার্ভ ফোর্স, সবমিলিয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী মোতায়নও সম্পন্ন হয়েছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৩ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া ৪২ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ, আনসার, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ও প্রিসাইডিং অফিসার উপস্থিত থাকবেন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে নিকটবর্তী স্ট্রাইকিং ফোর্স দ্রুত সাড়া দেবে। ‘আমরা আশা করছি, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
ভোটকেন্দ্রের চারপাশে কঠোর নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের ৪০০ গজের ভেতরে ভোটার ও অনুমোদিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসার সদস্য মিলিয়ে ১৪ থেকে ১৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাইরের এলাকায় স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে। নিরাপত্তা প্রযুক্তির বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলার সব ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা কেন্দ্র এবং প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ সব স্থানে ক্যামেরা থাকবে। এর মধ্যে ৪৫১টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশের বডি ক্যামেরাও ব্যবহার করা হবে, যা জেলা পর্যায় ছাড়াও ঢাকা থেকে প্রধান পুলিশ কার্যালয় থেকে মনিটর করা যাবে। এসব ক্যামেরার নেটওয়ার্ক ও শব্দ ধারণক্ষমতাও অত্যন্ত উন্নত বলে জানান তিনি।