ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

তুলার উৎপাদন ভালো হলেও দামে খুশি নন কৃষক

তুলার উৎপাদন ভালো হলেও দামে খুশি নন কৃষক

দেশসেরা কুষ্টিয়ার অন্যতম চাহিদানির্ভর অর্থকরী ফসল তুলা। আর এ অর্থকরী ফসল তুলা সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে কুষ্টিয়াতে। এ অঞ্চলের তুলার আঁশের গুণগত মান ভালো হওয়ায় এখানকার তুলার চাহিদাও বেশি। তুলার হাটে তুলা বিক্রয়ে ব্যস্ত এখন চাষিরা। তবে এ বছর তুলার ফলন সন্তোষজনক হলেও উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় দাম নিয়ে হতাশ তারা। সরকারের কাছে দাম বৃদ্ধির দাবি চাষিদের।

তুলা উন্নয়ন বোর্ড কুষ্টিয়ার তথ্যমতে চলতি মৌসুমে কুষ্টিয়া জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের তুলার চাষ হয়েছে। যার সিংহভাগই চাষ হয়েছে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায়। বিভিন্ন জাতের তুলার মধ্যে রয়েছে হাইব্রিড জাতের রূপালি-১, হোয়াইট গোল্ড-১ ও হোয়াইট গোল্ড-২ জাতের তুলা। প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে চাষিদের খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। ফলন হচ্ছে বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১২ মন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি। এ বছর প্রতিমন তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে বিক্রয় হচ্ছে যা গতবছরের চেয়ে কম। দীর্ঘ মেয়াদী এ ফসলের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়েনি তুলার দাম, বরং কমেছে। তাই দাম কমায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দাম বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন চাষিরা। দৌলতপুর উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ গ্রামের তুলা চাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, এ বছর সার ও কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। দীর্ঘ মেয়াদী তুলার আবাদ বীজ বপন থেকে উত্তোলন পর্যন্ত সবধরণের খরচই বেড়েছে। জমি থেকে তুলা সংগ্রহ করতে এ বছর প্রতি বিঘায় খরচ হচ্ছে প্রায় ৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বিঘা জমিতে তুলা চাষে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

অপর তুলা চাষি নাহারুল ইসলাম বলেন, তুলা একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। প্রায় ৭-৮ মাস সময় লাগে এর ফলন পেতে। এবার বিঘা প্রতি ১৫-১৬ মণ ফলনের সম্ভাবনা আছে। গত বছর প্রতি মণ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি, কিন্তু এবার মিলাররা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তিনি তুলার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। আলমদিনা জিনিং মিলের কর্মকর্তা মো. ইমন হাসান জানান, কুষ্টিয়া তথা দৌলতপুর অঞ্চলের তুলার আঁশ ভাল হওয়ায় এর চাহিদাও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারদর সমন্বয় করে মিল মালিক এবং ব্যবসায়ীরা তুলার দাম নির্ধারণ ও তুলা ক্রয় করা হয়ে থাকেন। এ বছর প্রতি কেজি তুলার দাম ৯৬ টাকা অর্থাৎ প্রতি মন তুলা ৩ হাজার ৮৪০ টাকা দরে কেনা হচ্ছে। হাটে বস্তাভর্তি তুলার আর্দ্রতা পরীক্ষা করে তুলা ক্রয় করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কুষ্টিয়া জেলার প্রধান তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ আল মামুন জানান, জেলার দৌলতপুর, মিরপুর ও ভেড়ামারা এই তিন উপজেলায় তুলার চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪৩৪ হেক্টর জমিতে। তিনি বলেন, জেলায় ২ হাজার ৫০ জন তুলা চাষিকে কৃষি প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতপুরেই তুলা চাষির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বছর কুষ্টিয়া জোনে প্রায় ১৫৫ কোটি টাকার তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তুলা চাষিদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বীজ নির্ধারণ, বীজতলা রোগমুক্ত রাখতে চাষিদের কারিগরি পরামর্শ ও প্রণোদনা প্রদানসহ সার্বিক সহায়তা দিয়ে থাকে তুলা উন্নয়ন বিভাগ। আগামীতে কুষ্টিয়া জোনে চাষিদের জন্য প্রণোদনা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

তবে সব তুলা চাষিদের প্রণোদনার আওতায় এনে তুলার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা হলে চাষিরা তুলাচাষে আরও আগ্রহী হবে এবং চাহিদা নির্ভর তুলা চাষ বৃদ্ধি পাবে। ফলে সমৃদ্ধ কৃষি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত