ঢাকা বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

নাব্য কমে যমুনা এখন ফসলের মাঠ

* যমুনা জেগে উঠা বালুচর এখন বোরো ধানের দৃশ্য। এছাড়া চলতি বছরে জেগে উঠা চরে স্থানীয়রা বোরো, গম, মসুর, খেসারিসহ রবিশস্যগুলো চাষও করেছেন
নাব্য কমে যমুনা এখন ফসলের মাঠ

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর বুক জুড়ে এখন ইরি বোরোসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছে কৃষকরা। যমুনার নাব্য কমে যাওয়ায় এ চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারো ইরি বোরো ধান, ভুট্টা, কাউনসহ বিভিন্ন ফসল চাষে ঝুঁকে পড়েছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েক যুগ আগেও যমুনা নদীর তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। আর সেই যমুনার ভয়াবহ ভাঙনে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে এবং অনেক পরিবার এখনও মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে বিভিন্ন স্থানে এ ভাঙন কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনে নাব্য ক্রমশ কমছে।

এ কারণেই সৃষ্টি হয়েছে যমুনার বুকজুড়ে ধূ-ধূ বালু চর এবং কমে যাচ্ছে যমুনার আয়তন ও সৌন্দর্য। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জে যমুনার তীরবর্তী কাজিপুর, শাহজাদপুর, চৌহালী, বেলকুচি ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে আরও চরের প্রভাব বাড়ছে। এসব চর ও চরের তলদেশ জেগে উঠা ঘিরে এখন বিভিন্ন ফসলের চাষও শুরু হয়েছে। আর চরে গড়ে উঠেছে গরু মহিষের খামার এবং চরজুড়ে শোভা পাচ্ছে ইরি বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। বিশিষ্টজনের মতে, যমুনা নদীর বুকে যমুনা সেতু নির্মিত হওয়ার পর থেকে এ নাব্যও কমতে শুরু করেছে। যমুনার জেগে উঠা বালুচর এখন বোরো ধানের দৃশ্য। এছাড়া চলতি বছরে জেগে উঠা চরে স্থানীয়রা বোরো, গম, মসুর, খেসারিসহ রবি শস্যগুলো চাষও করেছেন।

যমুনা পাড়ের মানুষ অল্প সময়ে নৌকা যোগে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের সুবিধা থেকে এখন পোহাচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। চর ও ডুবোচর জনিত কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক কৃষক ও জেলে বলছেন, প্রমত্তা যমুনা আজ হাহাকার বালু চর।

এমনকি স্রোতের কারণে নৌকা বাইতেও সাহস পাইতাম না এবং সেখানে আজ নৌকার হালও ধরতে হয় না। সবমিলে সেই প্রেম যমুনার বাহার ও সৌন্দর্যের দৃশ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কৃষিবিদরা বলছেন, নাব্য কমে যাওয়ায় যমুনার বুকজুড়ে বিভিন্ন ফসলের চাষ হচ্ছে। এতে পাল্টে যাচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের অর্থনীতি।

এসব চাষে স্থানীয় কৃষিবিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় পানিউন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুল হুসাইন আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমানে যমুনার গতিপথ পরিবর্তনের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য গতিপথ ফেরাতে সম্প্রতি যমুনা নদীর বিভিন্ন চ্যানেলে ড্রেজিং কাজও করা হয়েছে। এ ড্রেজিংয়ে সে সময় যমুনার পথ চলাচলে কিছুটা সচল হয়েছিল এবং নানাবিধ কারণে বর্তমানে নাব্য ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তবে যথাসময়ে যমুনার চ্যানেল ড্রেজিং করলে পরিস্থিতি অনেকটা ফিরে আসতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত