ঢাকা সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সংগ্রামী নারীদের গল্প

নারী ক্ষমতায়নের অনন্য নাম কনিকা রানী

নারী ক্ষমতায়নের অনন্য নাম কনিকা রানী

অদম্য ইচ্ছা আর হাড় ভাঙা পরিশ্রমের জোরে তিনি শুধু স্বাবলম্বী নন, বরং শত শত নারীকে স্বাবলম্বী করেছেন। তিনি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা রানী সরকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দুর্গাপুরে প্রতিটি প্রান্তে উচ্চারিত হচ্ছে এক সাধারণ গৃহিণীর অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প। গতকাল রোববার সকালে নারী দিবসের অনুষ্ঠানে তার এ সফলতার গল্প বলছিলেন অকপটে। কনিকা রানী সরকারের এই পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে ছিল বছরের পর বছর কঠোর সাধনা। শুরুতে নিজের প্রবল আগ্রহে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সেলাই ও ব্লক-বাটিকের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় তার তৈরি পোশাক ও শৈল্পিক নকশা অল্প দিনেই স্থানীয় মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ঘরে বসে শুরু করা সেই ক্ষুদ্র উদ্যোগ আজ একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পাশাপাশি কনিকা আজ সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য এক অনুকরণীয় নাম। তৃণমূল পর্যায়ে তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সরকারিভাবে ২০২০সালে ‘অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জনকারী নারী’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা ও জয়িতা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তার এই অর্জন দুর্গাপুর তথা নারী সমাজকে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার নতুন স্বপ্ন দেখিয়েছে। কনিকা রানী সরকার নিজের দক্ষতা শুধু নিজের ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। বর্তমানে তিনি ?বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। ?দুর্গাপুরে বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ নারীকে সেলাই ও ব্লক-বাটিকের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলেছেন। শত শত অসহায় ও পিছিয়ে পড়া নারীকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস ও কৌশল শিখিয়েছেন। নিজের সাফল্য প্রসঙ্গে কনিকা রানী সরকার বলেন, ‘শুরুতে পথটা অনেক কঠিন ছিল, কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল- দক্ষতা থাকলে কেউ কাউকে আটকে রাখতে পারে না। আজ যখন দেখি আমার কাছে কাজ শিখে অন্য মেয়েরা আয় করছে এবং নিজেদের পরিবারে ভূমিকা রাখছে, তখন মনে হয় আমার পরিশ্রম সার্থক।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত