ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সাউন্ড বক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না

গ্রামে মাইকিং করে ঘোষণা
সাউন্ড বক্স বাজালে কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকে গানবাজনা নিষেধ করে মাইকিং করা হয়েছে । জেনে ও না জেনে কেউ সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজালে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি তাদের কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী প্রচার মাইকের মাধ্যমে এলাকায় এমন ঘোষণা দিয়েছেন বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি। তবে এতে ক্ষুব্ধ গ্রামটির একাংশ মানুষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির ছাঁয়া ঘেরা গ্রাম বড় মাজগ্রাম অনেকটায় সুনসান নিরবতা। জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছেন মুসল্লিরা। মসজিদের বারান্দায় বসেছে বৈঠক।

এ সময় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী বলেন, গত ২৭ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটি আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন, বড় মাজগ্রাম মহল্লার অধীনে কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট বাজানো হলে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। অর্থাৎ তাদের থেকে মসজিদে মসটি (চাল) নেওয়া হবে না। কবরস্থান তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এক কথায় সামাজিকভাবে তাদের বয়কট করা হবে।

তার ভাষ্য, কোরআনে গানবাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবুও সম্প্রতি কিছু বিয়ে-সুন্নতে খৎনা বাড়িতে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স বাজানো হয়েছে। এতে অসুস্থ মানুষসহ সবার স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মসজিদ থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে জমারত আলী ও রূপা খাতুন দম্পতির বাড়ি। তাদের এতিম নাতি ছেলে আলিফের (৭) সখ মিটাতে খৎনা অনুষ্ঠানে তারা ঈদের পরের গত বৃহস্পতিবার বাড়িতে সাউন্ড বক্স বাজিয়ে আনন্দ উল্লাস করেছিলেন। এতে মুসল্লিরা অস্বস্তি বোধ করলে সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধ করে দেন। এনিয়ে তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলে পরদিন শুক্রবার আলোচনা সাপক্ষে গ্রামে মাইক ও সাউন্ড বক্স বাজানো বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে রূপা খাতুন বলেন, নাতি ছেলের সখ পূরণ করতে খৎনা অনুষ্ঠানে মাত্র একদিন বক্স বাজানো হয়েছে। তবে নামাজ ও আজানের সময় বন্ধ ছিল। সব সময় সাউন্ডও কম থাকত। তবুও শত্রুতা করে মসজিদ কমিটির কিছু লোক প্রভাব দেখিয়ে ঝামেলা করতেছে। তার ভাষ্য, বন্ধ হলে সারাদেশেও বন্ধ হোক। শুধু এখানে কেন?

এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে বড় মাজগ্রামের মাইকিংয়ে প্রচার করার ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে এনিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

এটাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকর লিটন আব্বাস বলেন, প্রতিটা মানুষ স্বাধীন। আমরা কারও উপর কিছু চাপায় দিতে পারি না। এটা বন্ধ করার আইন-ইখতিয়ার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নেই। প্রত্যেকটা ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি নিজস্ব চেতনা আছে। এটা সৃষ্টির শুরু থেকেই আছে। সুতরাং বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

অভিযোগ অস্বীকার করে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদের সভাপতি আমির হোসেন বলেন, ‘সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ বিষয়টি ঠিক ওরকম নয়। উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ও মাইক বাজানো বন্ধের বিষয়ে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ তবে মাইকিংয়ে কি প্রচার হয়েছে তা তিনি জানেন না।

দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গানবাজনা বন্ধ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। আর জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত