ঢাকা সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করে চলছে সংসার

* সিরাজগঞ্জ সদরের যমুনা নদীর অদূরে খোকশাবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করছেন
সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করে চলছে সংসার

সিরাজগঞ্জে সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করে চলছে হতদরিদ্র মানুষের সংসার। যমুনা নদীর অদূরে খোকশাবাড়ি গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে সুস্বাদু ঝুরি তৈরি করছেন। এ ঝুরি তৈরিতে এখন তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর এ ঝুরি বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনা নদীর দফায় দফায় ভাঙনে খোকশাবাড়ি গ্রামের বহু পরিবার নিঃস্ব ও ক্ষতিগ্রস্ত হন। এতে অনেক পরিবার স্থানীয় ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। এ বাঁধে পূর্বপাড় খোকশাবাড়ি গ্রামের প্রায় ২০টি হতদরিদ্র পরিবারের লোকজন ঝুরি তৈরি করছেন কয়েক যুগ ধরে। এ ঝুরি বিক্রি করে তাদের ছেলে মেয়ের লেখাপড়ার খরচসহ চালাচ্ছেন সংসার। আতব চালের গুড়া দিয়ে দিনরাত ঝুরি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। এ ঝুরি সকালে বাড়ির আঙিনা ও মাঠ জুড়ে রোদে শুকাতে দেওয়া হয়। পরে তা বালুতে ভেজে বস্তায় সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি সপ্তাহের দুইদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাইকাররা এ সাদা ঝুরি ক্রয় করে নিয়ে যায়। এছাড়াও গৃহবধূরা এ ঝুরি চিনি ও গুড়ে মিশিয়ে প্যাকেটজাত করে। সুস্বাদু এ ঝুরি বিভিন্ন হাট বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে থাকে। বিশেষ করে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রামগঞ্জের মেলায় এ ঝুরি বিক্রি করা হয়। সুস্বাদু এই ঝুরির কদর অনেক। বর্তমানে অনেক বেকার যুবক ঝুরি ক্রয় করে নিয়ে হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জে বিক্রি করছে। এ বিষয়ে ওই গ্রামের ঝুরি তৈরির পরিবারের ফারুক হোসেন (৩৭), মানিক (২৬), সম্পদ আলী (৩৫) ও মর্জিনাসহ (৩০) অনেকেই বলছেন, যমুনা নদীর ভাঙনে এ গ্রামের বহু পরিবারের লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে এ ভাঙনে অনেকে নিঃস্ব হয়ে স্থানীয় ওয়াপদা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে কয়েকযুগ ধরে। তারা বিভিন্ন পেশায় জীবনযাপন করছে। সেই সঙ্গে ঝুরি তৈরি করেও সংসার চালাচ্ছে অনেক পরিবার। ১ মণ ঝুরি তৈরি করতে সাড়ে ৩ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হয়।

প্রতিমণ ঝুরি পাইকারদের কাছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। তবে মেলা ও হাট বাজারে এই ঝুরি বিক্রিতে লাভ বেশি হয়। ডিসেম্বরের প্রথম থেকে জুন পর্যন্ত এ ঝুরি তৈরির ব্যাবসা ভালো হয়। এ বিষয়ে সরকারের আর্থিক সহযোগিতা দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত