
পর্যায়ক্রমে বন্ধ থাকা সব টেক্সটাইল ও জুট মিল চালু করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, সারা বাংলাদেশে বন্ধ মিলগুলো বিশেষ করে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ টেক্সটাইল ও জুট মিল পরিদর্শন করা হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী এনে এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালুর প্রক্রিয়া এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার নীলফামারীর বন্ধ দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নীলফামারী জেলার প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল পরিদর্শনে এসেছি। মিলটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ছিল- সারা দেশের বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে টেক্সটাইল ও জুট মিলগুলো, পুনরায় চালু করা। সেই লক্ষ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি। দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি সুখবর হলো এই মিলটি নিয়ে এরইমধ্যে আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। মূল্যায়নের কাজ চলছে এবং আমরা একজন ভালো বিনিয়োগকারীও পেয়েছি। আশা করছি, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই মিলটি পুনরায় চালু হবে এবং স্থানীয় মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
শরীফুল আলম বলেন, আমাদের যেসব শিল্পাঞ্চল বন্ধ হয়ে আছে, সেগুলো চালু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। যত বেশি বিনিয়োগ আনা সম্ভব হবে, ততই মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে। এতে দেশের অর্থনীতি, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের প্রান্তিক মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হবে। গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত সময়ের প্রেক্ষাপট সবারই জানা। নানা ধরনের অসামঞ্জস্যতা ছিল। আমরা পিছনে না তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেই লক্ষ্যে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনা। সোনালী আঁশ হিসেবে পরিচিত পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবনে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাট আমাদের ঐতিহ্যের অংশ, যা বর্তমানে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। এটি পুনরুদ্ধারের জন্য আমরা নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছি। পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট দূর করতে খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।