
২৪এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফেনীর মহিপালে টমটমচালক মো. সবুজ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফেনী-২ আসনের সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সব আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের আদেশ দিয়েছেন বিচারক। গতকাল মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. সিরাজুদ্দৌলাহ কুতুবী এ আদেশ দেন। এর মধ্যদিয়ে মহিপালে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হওয়া ৭টি হত্যাসহ ২৪টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার বিচার শুরু হলো। মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, আসামি কারা তা মুখ্যবিষয় না, ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে এমন প্রত্যাশা ফেনীবাসীর। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নির্বিচারে করা গুলিতে প্রাণ হারান মো. সবুজ। পরে ওই বছরের ১৩ আগস্ট সবুজের ভাই মো. ইউছুফ বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী সদর উপজেলার পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল, সাবেক ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজীসহ ৬৫ জনের নাম উল্লেখ ও আরও ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
গত বছরের ২২ ডিসেম্বর পলাতক থাকায় নিজাম উদ্দিন হাজারীসহ পলাতক ৭১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তার আগে ৯ ডিসেম্বর মামলায় এজাহারনামীয় ৬৫ জন ও তদন্তে নাম পাওয়া আরও ৫৯ জনসহ মোট ১২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়।