ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জরাজীর্ণ ভবনে অফিসের কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

জরাজীর্ণ ভবনে অফিসের কার্যক্রম, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

যশোরের কেশবপুর উপজেলা ডাকঘর (পোস্ট অফিস) ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের প্লাস্টার খসে পড়ছে। ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে গেছে। স্টোর রুমের প্লাস্টার খসে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ ও নথিপত্র নষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ডাকঘরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এখানে সেবা নিতে আসা লোকজনও থাকেন আতঙ্কে।

কেশবপুর ডাকঘর সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালের দিকে ডাকঘর ভবনটি নির্মিত হয়। চার দশকের বেশি সময় আগে নির্মিত ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ঢাকার সাভারের রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির পর কেশবপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে ফেলার চিঠি দিয়েছিল। কিন্তু তা আর ভাঙা হয়নি। বরং ঝুঁকি নিয়ে সেখানে চলছে দাপ্তরিক কাজ।

গতকাল ২৫ এপ্রিল কেশবপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের পাশে ডাকঘর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়েই কার্যক্রম চলছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের প্লাস্টার খসে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। কক্ষগুলোতে নোনা ধরে প্লাস্টার খসে ইট বেরিয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ডাকঘরটির সহকারী পরিদর্শক অশোক কুমার দাস বলেন, তিনি যেখানে কাজ করেন তার ওপরেই ছাদের প্লাস্টার খসে পড়েছিল। সেটি মেরামত করে আবারও কাজ চলছে। এ পরিবেশে কাজ করতে একটু ভয়ই লাগে। আবার কখন কী হয়, তার ঠিক নেই।

অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরা বলেন, একবার ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙে পোস্টমাস্টারের টেবিলের ওপরে পড়েছিল। সেদিন এক ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেটি মেরামত করে আবারও সেখানে বৈদ্যুতিক পাখা ঝোলানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে তাদের ভয়ে ভয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

ডাকঘরে সেবা নিতে এসেছেন আব্দুল জলিল নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, প্রতি মাসেই এই অফিসে কাজে আসেন। বহু বছর ধরে তিনি এই ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখছেন।

পোস্ট অফিসের নতুন ভবন হওয়া দরকার। পোস্টমাস্টার লিনটন কুমার সরকার বলেন, ভবনের এ দুরবস্থার কথা তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু এখনও কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছেন না। ডাকঘরটির সাবেক পোস্টমাস্টার রবিউল হক বলেন, রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির পর কেশবপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিঠি দিয়েছিল।

তখন তিনিও চিঠি লিখে ভবনের অবস্থা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।

পোস্টাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান যশোরের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মাজাহার হোসেন বলেন, শুধু এই ভবনটি নয়, পোস্ট অফিসের অনেক ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ প্রকল্প নামে নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

কিন্তু এখনও পর্যন্ত নতুন ভবন বরাদ্দ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যত দূর জেনেছেন, এ রকম আরও কয়েকটি অফিসের নতুন ভবন করার জন্য একটি প্রকল্প করে খুলনার সার্কেল অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পাস করার অপেক্ষায় আছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত